রোববার, ৩১ মে, ২০২৬, ঢাকা

ফেসবুক মেমোরি আমাদের হাসায় না কি কাঁদায়?

তানজিদ শুভ্র
প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ফেসবুক মেমোরি আমাদের হাসায় না কি কাঁদায়?
ফেসবুক মেমোরি আমাদের হাসায় না কি কাঁদায়

সকালের ব্যস্ততায় হঠাৎ ফোনে একটি নোটিফিকেশন আসে, “You have memories to look back…”। কৌতূহলবশত ক্লিক করতেই ভেসে ওঠে বছর কয়েক আগের ছবি। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, কিংবা পরিবারের কোনো আনন্দময় মুহূর্ত। মুহূর্তেই যেন সময়ের চাকা উল্টো ঘুরতে শুরু করে। আমরা ফিরে যাই সেই দিনগুলোতে, যেগুলো হয়তো অনেক আগেই স্মৃতির ধুলোয় ঢেকে গিয়েছিল।

ফেসবুকের ‘মেমোরি’ ফিচারটি মূলত আমাদের অতীতকে বর্তমানের সামনে এনে দাঁড় করায়। কখনো এটি মুখে হাসি ফোটায়, আবার কখনো অজান্তেই চোখের কোণ ভিজিয়ে দেয়। প্রশ্ন হলো, ফেসবুক মেমোরি আসলে আমাদের হাসায়, না কি কাঁদায়?


বিজ্ঞাপন


memories_1

একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি তোলা মানেই ছিল বিশেষ কোনো মুহূর্ত ধরে রাখা। প্রথম চাকরি, জন্মদিনের আয়োজন, বন্ধুদের সঙ্গে শেষ বেঞ্চের হাসি কিংবা কোনো ভ্রমণের স্মৃতি। বছর ঘুরে যখন সেই ছবিগুলো আবার সামনে আসে, তখন অনেকেই আনন্দে ভরে ওঠেন। পুরনো বন্ধুদের খুঁজে পান, ভুলে যাওয়া মুহূর্তগুলো নতুন করে বেঁচে ওঠে। মনে হয়, জীবনটা কত সুন্দর ছিল!

ফেসবুক মেমোরিকে ইতিবাচকভাবেই দেখেন ডিজিহুকের ক্রিয়েটিভ এক্সিকিউটিভ কামরান চৌধুরী। তার ভাষায়, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুন্দর কিছু মুহূর্ত স্মরণীয় করতে ফেসবুক মেমোরিজ অনেক সহায়তা করে। এটি আসলেই অনেক ভালো লাগে।’

memories_2


বিজ্ঞাপন


ফেসবুক জানে না, ছবির মানুষটি আজ আর কাছে নেই। জানে না, যে সম্পর্কের ছবি একসময় শত ভালোবাসার সাক্ষী ছিল, তা হয়তো এখন শুধুই অতীত। তাই হঠাৎ কোনো পুরনো ছবি বা পোস্ট সামনে এলে বুকের ভেতর জমে থাকা আবেগও জেগে ওঠে। অনেকের কাছে ফেসবুক মেমোরি হয়ে ওঠে হারিয়ে যাওয়া মানুষদের সঙ্গে নীরব এক দেখা হওয়ার উপলক্ষ।

মজার বিষয় হলো, একই স্মৃতি একসময় আমাদের হাসাতে পারে, আবার অন্য সময় কাঁদাতেও পারে। কারণ স্মৃতি বদলায় না, বদলে যায় আমাদের অবস্থান। যে ছবিতে একসময় শুধু আনন্দ দেখতাম, বছর কয়েক পর সেখানে হয়তো খুঁজে পাই বিচ্ছেদ, পরিবর্তন কিংবা সময়ের নির্মম গতিকে।

memories_3

এমনটাই মনে করেন একজন নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহারকারী। তিনি বলেন, ‘স্মৃতি সবসময় কাঁদায়, হোক তা সুখের কিংবা দুঃখের। প্রতি রাত ১২টায় ফেসবুক মেমোরি চেক করা অভ্যাস হয়ে গেছে। মেমোরি দেখতে গিয়ে কখনো উচ্ছ্বসিত হই, আবার কখনো বিষাদ ছুঁয়ে যায়। পুরনো লেখা বা ছবিতে অনেকের রিয়্যাক্ট আর মন্তব্য চোখে পড়ে, যাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন যোগাযোগ নেই। কেউ কেউ আর বেঁচেও নেই। তখন ভেতরে খুব কষ্ট লাগে। আবার কখনো আনন্দের স্মৃতিগুলো আমাদের পুরনো সুখের সময়গুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।’

তবে নস্টালজিয়ার একটা আলাদা শক্তি আছে। এটি মানুষকে তার শেকড়ের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। বর্তমানের ব্যস্ততা, চাপ আর প্রতিযোগিতার ভিড়ে আমরা প্রায়ই ভুলে যাই, কতটা পথ পেরিয়ে এসেছি। ফেসবুক মেমোরি সেই পথটুকু চোখের সামনে তুলে ধরে। মনে করিয়ে দেয়, জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ই কোনো না কোনোভাবে মূল্যবান ছিল।

memories_5

ফেসবুক নেটিজেন হুমাইরা খানম জেরীনও পুরোনো স্মৃতি ফিরে দেখার মধ্যে আনন্দ খুঁজে পান। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যে দেখি, ভালো লাগে।’

তাই ফেসবুক মেমোরি শুধু হাসায় বা কাঁদায়, এমনটা বলা কঠিন। বরং এটি আমাদের অনুভব করতে শেখায়। কখনো আনন্দ, কখনো বেদনা, কখনো কৃতজ্ঞতা। একটি ছোট্ট নোটিফিকেশন আমাদের মনে করিয়ে দেয়- সময় চলে যায়, কিন্তু স্মৃতিগুলো কোথাও না কোথাও থেকে যায়।

memories_6

হয়তো এ কারণেই আমরা বারবার সেই মেমোরি খুলে দেখি। কারণ সেখানে শুধু পুরোনো ছবি থাকে না, থাকে আমাদেরই এক টুকরো অতীত। আর মানুষ যতই সামনে এগিয়ে যাক, নিজের অতীতকে ফিরে দেখার আকর্ষণ কখনো ফুরিয়ে যায় না।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

এনএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর