রোববার, ৩১ মে, ২০২৬, ঢাকা

কেন সম্পর্কের আঘাতে পুরুষরা বেশি ভেঙে পড়েন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৬, ১০:৪৩ এএম

শেয়ার করুন:

কেন সম্পর্কের আঘাতে পুরুষরা বেশি ভেঙে পড়েন?
কেন সম্পর্কের আঘাতে পুরুষরা বেশি ভেঙে পড়েন?

সম্পর্কের টানাপোড়েন বা বিচ্ছেদের পর কার কষ্ট বেশি— এই বিতর্ক চিরন্তন। প্রচলিত সামাজিক ধারণায় মনে করা হয় নারীরাই হয়তো সম্পর্কের ভাঙনে বেশি ভেঙে পড়েন। তবে আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা ও লাইফস্টাইল বিশ্লেষকদের মতে, সম্পর্কের টানাপোড়েন বা ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে পাওয়া আঘাতে পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক সময় বেশি এবং দীর্ঘস্থায়ী কষ্ট পান। পুরুষদের এই নীরব কান্নার নেপথ্যে কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ রয়েছে।

আবেগ লুকিয়ে রাখার সামাজিক চাপ


বিজ্ঞাপন


ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের শেখানো হয় ‘ছেলেরা কাঁদবে না’ কিংবা ‘পুরুষ মানুষকে শক্ত হতে হয়’। এই সামাজিক কাঠামোর কারণে পুরুষরা সহজে তাদের ভেতরের কষ্ট, হতাশা বা একাকীত্ব কারও সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন না। নারীরা যেমন মন খারাপ হলে কেঁদে বা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে হালকা হতে পারেন, পুরুষদের সেই সুযোগ বা অভ্যাস থাকে না। ফলে ভেতরের কষ্টটা ভেতরেই জমতে থাকে এবং তা এক সময় গভীর মানসিক ক্ষত তৈরি করে।

women

সহজে শেয়ার না করার মানসিকতা

নারীদের একটি বড় শক্তি হলো তাদের সামাজিক যোগাযোগ বা ‘সাপোর্ট সিস্টেম’। যেকোনো মানসিক সংকটে তারা পরিবার বা কাছের বন্ধুদের পাশে পান। অন্য দিকে, পুরুষরা সাধারণত তাদের সম্পর্কের সমস্যা বা কষ্টের কথা বন্ধুদের আড্ডায় বলতে সংকোচ বোধ করেন। তারা লোকলজ্জার ভয়ে বা নিজেদের ‘দুর্বল’ প্রমাণ না করার জন্য একা একা সেই কষ্ট বয়ে বেড়ান। এই একাকীত্ব তাদের কষ্টকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।


বিজ্ঞাপন


অহংকার ও আত্মবিশ্বাসে বড় আঘাত

যেকোনো সম্পর্কে পুরুষরা সাধারণত নিজেদের একজন ‘রক্ষক’ বা ‘প্রোভাইডার’ হিসেবে দেখতে পছন্দ করেন। যখন সেই সম্পর্কের অবসান ঘটে বা সঙ্গিনীর কাছ থেকে অবহেলা আসে, তখন তা কেবল তাদের হৃদয়েই আঘাত করে না, বরং তাদের পুরুষত্ব ও আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দেয়। এই রিজেকশন বা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার গ্লানি পুরুষরা সহজে মেনে নিতে পারেন না, যা তাদের দীর্ঘ মেয়াদে বিষণ্ণ করে তোলে।

c-1714713168

অভ্যাস ও জীবনযাত্রার বিপর্যয়

সম্পর্কে থাকার সময় পুরুষরা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অনেক কিছুর জন্যই সঙ্গিনীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। বিচ্ছেদ বা দূরত্বের পর হঠাৎ করে এই ছন্দপতন তাদের জীবনকে এলোমেলো করে দেয়। একাকীত্ব কাটানোর জন্য অনেক পুরুষ তখন ভুল পথ বা বিভিন্ন নেতিবাচক অভ্যাসের দিকে ঝুঁকে পড়েন, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক কষ্টকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে।

আরও পড়ুন: বউয়ের অবাধ্য হন না কখনোই! এই ৪ রাশির পুরুষরা নাকি 'স্ত্রীর বশ’

কষ্ট পাওয়ার অনুভূতি নারী বা পুরুষ ভেদে আলাদা নয়। তবে প্রকাশের ভিন্নতার কারণে পুরুষের কষ্টটা আড়ালেই থেকে যায়। তাই সুস্থ জীবনের জন্য পুরুষদেরও উচিত আবেগের দেয়াল ভেঙে কষ্ট প্রকাশ করা এবং প্রয়োজনে প্রিয়জনদের সাথে মন খুলে কথা বলা।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর