মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ঢাকা

ফ্যাটি লিভার সমস্যায় ভুগছেন? যেমন হবে ঈদ ভোজের খাদ্যাভ্যাস 

লাইফস্টাইল প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬, ১১:১২ এএম

শেয়ার করুন:

ফ্যাটি লিভার সমস্যায় ভুগছেন? যেমন হবে ঈদ ভোজের খাদ্যাভ্যাস 
ফ্যাটি লিভার সমস্যায় ভুগছেন? যেমন হবে ঈদ ভোজের খাদ্যাভ্যাস (ছবিটি এআই দ্বারা নির্মিত)

ঈদ মানেই পেটপুরে খাওয়ার উপলক্ষ। ঘরে ঘরে চলে পোলাও, কোরমা, রেজালা, কাবাব আর বাহারি মিষ্টান্নের আয়োজন। ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদের জন্য এই আনন্দের সময়টিই হতে পারে ঝুঁকির কারণ। সামান্য অসচেতন হলেই বাড়তে পারে লিভারের চাপ, গ্যাস্ট্রিক, অস্বস্তি কিংবা হজমের সমস্যা। কিন্তু ঈদের আনন্দ থেকে তো আর পুরোপুরি দূরে থাকা যায় না। তাহলে উপায়। 

কিছু সচেতনতা মানলে আর খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে ঈদেও সুস্থ থাকতে পারবেন ফ্যাটি লিভারে ভোগা ব্যক্তিরা। কেমন হবে এমন মানুষদের ঈদ ভোজের খাদ্যাভ্যাস। চলুন জানা যাক- 


বিজ্ঞাপন


fatty_liver

ফ্যাটি লিভার কী?

ফ্যাটি লিভার হলো এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যখন যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করে। এর মূল কারণ অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, অনিয়মিত জীবনযাপন ইত্যাদি। অনেক সময় শুরুতে কোনো উপসর্গ দেখা না গেলেও ধীরে ধীরে এটি লিভারের ক্ষতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

ঈদে ফ্যাটি লিভারের রোগীদের ঝুঁকি বাড়ে কেন? 

কোরবান ঈদের সময় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাংসভিত্তিক ভারী খাবার খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে অনেকেরই। এতেই বাড়ে ঝুঁকি। বিশেষ করে—

  • অতিরিক্ত গরু বা খাসির মাংস খাওয়া
  • বারবার ভাজাপোড়া ও তেলযুক্ত খাবার খাওয়া
  • কোমল পানীয় ও মিষ্টি বেশি খাওয়া
  • পানি কম পান করা
  • রাত জেগে খাওয়া-দাওয়া করা

fatty_liver_1

ঈদে ফ্যাটি লিভারে ভোগা রোগীর খাদ্যাভ্যাস যেমন হওয়া উচিত 

পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি

একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে কয়েকবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। প্লেট ভর্তি করে খাওয়ার বদলে ছোট পরিমাণে খাবার নিন। এতে খাবার সহজে হজম হবে। 

মাংস খান বেছে 

গরুর চর্বিযুক্ত অংশ এড়িয়ে চলুন। কম চর্বিযুক্ত অংশ বেছে নিন। রান্নার আগে দৃশ্যমান চর্বি ফেলে দিন। খাসির চেয়ে গরুর লিন মিট বেছে নিতে পারে। লিন মিট (Lean Meat) হলো এমন ধরনের মাংস যাতে চর্বির পরিমাণ খুব কম থাকে।

beef

ভুনা নয় ঝোল রান্না করুন 

অতিরিক্ত তেল দিয়ে রান্না করা ভুনা বা রেজালা মাংস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তার বদলে পাতলা ঝোল বা কম মসলায় রান্না করা মাংস খেতে চেষ্টা করুন। গ্রিল বা বেক করা মাংসও তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর।

মিষ্টি ও কোমল পানীয় খান সীমিত পরিসরে

ঈদে সেমাই, মিষ্টি, সফট ড্রিংক খাওয়া হয় অনেক। এসব খাবারে প্রচুর চিনি থাকে। অতিরিক্ত চিনির কারণে লিভারে চর্বি জমতে পারে। তাই এসব খাবার যত কম খাবেন ততই ভালো। 

salad

রোজকার পাতে রাখুন সালাদ ও আঁশযুক্ত খাবার

প্রতিটি ভারী খাবারের সঙ্গে পাতে রাখুন শসা, টমেটো, গাজর বা সবজির সালাদ। আঁশযুক্ত খাবার হজমে সাহায্য করে এবং পেট দীর্ঘসময় ভরা রাখে। 

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করার চেষ্টা করুন। এতে হজম ভালো হয় এবং শরীরের বিপাকক্রিয়াও সচল থাকে।

walking

শরীরচর্চা জরুরি 

ঈদের ছুটিতে অনেকেই অলস সময় কাটান। কিন্তু কেবল খাবার নিয়ন্ত্রণ করে সুস্থ থাকা কঠিন। ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে অবশ্যই প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস বজায় রাখতে হবে। ভারী খাবারের পর হালকা হাঁটাহাঁটি করুন। এতে হজম ভালো হবে। 

এসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না 

ঈদের সময় অতিরিক্ত খাওয়ার পর যদি বারবার পেট ফাঁপা, বমিভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা পেটের ডান পাশে ব্যথা অনুভূত হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ফ্যাটি লিভার মানেই যে সব প্রিয় খাবার খাওয়া বাদ দিতে হবে এমনটা নয়। বরং সচেতনভাবে, পরিমিত খাওয়ার মধ্য দিয়েই ঈদের আনন্দ উপভোগ করুন।

এনএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর