রোজকার জীবনের ব্যস্ততা, যানজটে আটকে থাকা, জরুরি মিটিং কিংবা টুকটাক কাজের প্রয়োজনে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখেন। যদি এই অভ্যাসটি সাধারণ মনে হয় তবে ইউরোলজিস্টদের (মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞ) মতে, নারী ও পুরুষ- উভয়ের জন্যই এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
একটি সুস্থ ও জীবনযাপনের ক্ষেত্রে প্রস্রাব আটকে রাখা সমস্যার কারণ হতে পারে। এমনটাই বলছেন চিকিৎসকরা। দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখলে কিডনি ও মূত্রথলির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
বিজ্ঞাপন

ইউরোলজিস্টদের মতে, মূত্রথলি যখন আংশিকভাবে পূর্ণ থাকে, তখন এটি স্বাভাবিকভাবেই স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে প্রস্রাব ধারণ করতে পারে। যদি দীর্ঘ সময় ধরে মূত্রথলি অতিরিক্ত পূর্ণ অবস্থায় থাকে, তবে তা মূত্রতন্ত্রের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়।
স্বল্পমেয়াদের ফলে তলপেটে ব্যথা, মূত্রনালীতে জ্বালাপোড়া, প্রস্রাব আটকে যাওয়া এবং মূত্রনালীর সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। নারীরা সংক্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকেন, কেননা মূত্রনালী যদি ঘন ঘন খালি না করা হয়, তাহলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন
অনেকেই ভ্রমণের সময় বা বাইরে থাকাকালীন সুলভ শৌচালয় ব্যবহার করতে পছন্দ করেন না এবং ইচ্ছাকৃতভাবেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রস্রাব করা থেকে বিরত থাকেন। এই অভ্যাসের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, প্রস্রাবে ইউরিক অ্যাসিডের স্ফটিক তৈরি হতে পারে এবং মূত্রথলির ভেতরের আবরণে জ্বালাপোড়া বা প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে।
কারও কারও ক্ষেত্রে প্রস্রাব করার তীব্র বেগ অনুভূত হতে পারে, যার ফলে অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়া কিংবা মূত্রথলিতে তীব্র খিঁচুনি বা ব্যথা হতে পারে।

প্রস্রাব চেপে রাখার দীর্ঘমেয়াদী কু-প্রভাব কী কী?
প্রস্রাব চেপে রাখার দীর্ঘমেয়াদী কু-প্রভাব আরও গুরুতর হতে পারে। মূত্রথলির পেশিগুলো দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্রাব আটকে রাখার ফলে মূত্রথলির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মূত্রথলি সম্পূর্ণ খালি করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে, যার ফলে প্রস্রাব আটকে থাকার সমস্যা দেখা দেয়।
প্রস্রাব আটকে থাকার এই সমস্যার কারণে ঘন ঘন সংক্রমণ এবং মূত্রথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। যেসব ব্যক্তির শারীরিক গঠন বা অবস্থা সংক্রমণের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, তাদের ক্ষেত্রে মূত্রথলিতে দীর্ঘস্থায়ী উচ্চচাপ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিডনির ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

কাদের ঝুঁকি বেশি?
প্রোস্টেটজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগী, ডায়াবেটিস রোগী, গর্ভবতী নারী, শিশু এবং বয়স্ক পুরুষদের এ বিষয়ে বেশি সতর্ক থাকা উচিত। কারণ প্রস্রাব সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তাদের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি থাকে।
মনে রাখবেন, দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্রাব আটকে রাখার অভ্যাস কোনোভাবেই স্বাস্থ্যকর নয়। মূত্রথলি ও কিডনির সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুন, নিয়মিত বিরতিতে (প্রতি ৩-৪ ঘণ্টা অন্তর) প্রস্রাব করুন এবং হোটেল বা রেস্তোরাঁর মতো যেসব স্থানে পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে প্রস্রাব করা থেকে বিরত থাকবেন না।
এনএম




