আমাদের দেশে যৌন স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে লজ্জার বিষয় মনে করা হয়। কেউবা একে কেবল যৌনতার অংশই ভাবেন। রোজকার ভুল খাদ্যাভ্যাস, কাজের চাপ, ধূমপানের অভ্যাসের মতো অভ্যাসগুলো যৌন স্বাস্থ্যে খারাপ প্রভাব ফেলছে। এ কারণেই অনেক পুরুষ শত চেষ্টা করেও বাবা হতে পারেন না।
সন্তান জন্মদানের কাজটি নারী করলেও সন্তান গ্রহণের বিষয়ে পুরুষ সমান গুরুত্ব রাখে। কম যৌন ক্ষমতা, লো কোয়ালিটির স্পার্মের মতো কারণে পুরুষের সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা কমে আসে। কিছু খাবার রয়েছে যা পুরুষের যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এই খাবারগুলো সম্পর্কে জেনে নিন-
বিজ্ঞাপন

মধু:
যৌন শক্তি বৃদ্ধি এবং যৌবন ধরে রাখার শ্রেষ্ঠ উপাদান মধু। সকালে খালি পেটে জিহ্বা দিয়ে চেটে খেলে কফ দূর হয়, পাকস্থলী পরিষ্কার হয়, দেহের অতিরিক্ত দূষিত পদার্থ বের হয়। এটি পাকস্থলী স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এখানেই শেষ নয়। নিয়মিত মধু খেলে মূত্রথলির পাথর দূর হয়, প্রস্রাব স্বাভাবিক হয়, গ্যাস নির্গত হয় ও ক্ষুধা বাড়ে। প্যারালাইসিসের জন্যও মধু উপকারী। এটি হাজারো রকম ফুল ও দানার নির্যাস।
খেজুর:
যৌন শক্তির সঙ্গে খোরমা ও খেজুরের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণেই বিয়ে-শাদীতে খোরমা-খেজুর বিলি করার আদিম রীতি চলে আসছে। খেজুর খেলে পিপাসা দমন হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন গ্রন্থেও খোরমা ব্যবহার যৌন শক্তির জন্য উপকারী বলা হয়েছে।

ডিম ও দুধ:
সকালের নাস্তায় প্রতিদিন একটি করে সেদ্ধ ডিম খান। এটি যৌনশক্তি বৃদ্ধি করে এবং ডিম খেলে সারাদিন শরীরে শক্তি পাওয়া যায় ও শরীর চাঙ্গা থাকে। সকাল বেলা একটি সেদ্ধ ডিম খেলে সারাদিন শরীরে শক্তি পাওয়া যায়। কারণ সেদ্ধ ডিমে আছে ভিটামিন, প্রোটিন ও শরীরের জন্য উপকারী চর্বি উপাদান। তাড়াহুড়ার সময় যদি নাস্তা খাওয়ার সময় না থাকে তাহলেও একটি সেদ্ধ ডিম খেয়েই সেরে নিন সকালের নাস্তা। সেদ্ধ ডিমে আছে ভিটামিন, প্রোটিন ও শরীরের জন্য উপকারী চর্বি উপাদান। যৌন শক্তি বৃদ্ধি এবং যৌবন ধরে রাখতে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন দুধও। বিশেষ করে ছাগলের দুধ পুরুষের যৌন শক্তি বৃদ্ধিতে অসাধারণ ভূমিকা পালন করে।
পালং শাক:
পালং শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম। এই উপাদানটি শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে। জাপানের গবেষকদের মতে শরীরে রক্ত চলাচল বাড়লে যৌন উদ্দীপনাও বাড়ে। পালং শাক ও অন্যান্য বিভিন্ন রকম শাক, ব্রকলি, লেটুস, ফুলকপি, বাঁধাকপি এগুলোতে রয়েছে ফলেট, ভিটামিন বি সহ অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব শাক-সবজি সুস্থ যৌন জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান।

রসুন:
রসুনে অনেক উপকারিতা রয়েছে। এটি প্রস্রাব স্বাভাবিক করে, পাকস্থলী থেকে গ্যাস নির্গত করে, নিস্তেজ লোকদের মধ্যে যৌন ক্ষমতা সৃষ্টি করে, বীর্য বৃদ্ধি করে, বীর্য গাঢ় করে।
স্ট্রবেরি:
দেহের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে স্ট্রবেরি। এতে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা পুরুষের স্পার্মের সংখ্যা বৃদ্ধি করে।

কলা:
কলায় আছে ব্রমেলাইন নামক এনজাইম যা পুরুষের যৌন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এছাড়াও এতে আছে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম ও রিবফ্লাবিন যা শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে দেহকে সুস্থ রাখে এবং বীর্যের মান উন্নত করে।
তরমুজ:
এই ফলটিকে মূলত প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা বলা হয়ে থাকে। এক গবেষণায় জানা গেছে তরমুজে আছে এমন কিছু বিশেষ উপাদান যা দেহের যৌন উত্তেজনা বাড়াতে সাহায্য করে।

বাদাম:
সব ধরনের বাদামেই আছে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট ও কোলেস্টেরল যা দেহের যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে এবং বীর্য তৈরি ও ঘন হতে সাহায্য করে। এর মধ্যে কাঠবাদাম, চিনা বাদাম, কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম বেশি উপকারি।
তৈলাক্ত মাছ:
তৈলাক্ত মাছে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যা সুস্থ যৌন জীবনের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সামুদ্রিক মাছেও প্রচুর পরিমাণে এই উপাদান থাকে। ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড DHA O EPA শরীরে ডোপামিন বাড়িয়ে দেয় এবং মস্তিষ্কে উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে। তৈলাক্ত ও সামুদ্রিক মাছ খেলে শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং গ্রোথ হরমোনের নিঃসরণ হয়। ফলে যৌন স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
এনএম




