বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ঢাকা

সন্তান কৈশোরে পা দিতেই মায়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে কেন?

লাইফস্টাইল প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

সন্তান কৈশোরে পা দিতেই মায়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে কেন?
ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি

বয়ঃসন্ধি এমন একটি সময় যখন একটি শিশু শৈশব পেরিয়ে ধীরে ধীরে পা বাড়ায় কৈশোরে। মায়ের কোল ছেড়ে সে নিজের আলাদা জগত তৈরি করতে শুরু করে। বয়সের এই পর্যায়ে চিন্তাভাবনা, পছন্দ-অপছন্দ, বন্ধুত্ব, স্বাধীনতার ইচ্ছে সব দ্রুত বদলাতে থাকে। আর ঠিক এসময়ই সন্তান আর মায়ের মধ্যে একটি অদৃশ্য দেয়াল গড়ে ওঠে। 

বয়ঃসন্ধিকালে হঠাৎ করেই মা আর সন্তানের মাঝে মতের অমিল দেখা দেয়। যে সন্তান একসময় নিজের সব কথা মায়ের সঙ্গে ভাগ করে নিত সে হঠাৎ নিজেকে গুঁটিয়ে নেয়। এই পরিবর্তন মায়ের জন্য যেমন কষ্টকর হতে পারে, তেমনি সন্তানের কাছেও বিষয়টি বিব্রতকর হয়ে ওঠে। 


বিজ্ঞাপন


mother_5

মা-সন্তানের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে কেন?

স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ

সবচেয়ে বেশি মতের অমিল দেখা যায় স্বাধীনতা নিয়ে। সন্তান নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে চায়। কী পোশাক পরবে, কার সঙ্গে মিশবে, কোথায় যাবে বা মোবাইলে কী দেখবে— সব বিষয়ে মায়ের সঙ্গে তর্ক বাঁধতে পারে। মায়েরা সাধারণত সন্তানের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে কিছু নিয়ম তৈরি করেন, যা কৈশোরে পা রাখা সন্তান বুঝতে চায় না। সে ভাবে মা তাকে বুঝতে চাচ্ছে না। 


বিজ্ঞাপন


মতের অমিল 

মতের অমিল দেখা দেয় পড়াশোনা নিয়েও। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই, মায়েরা চান সন্তান নির্দিষ্ট লক্ষ্য মেনে চলুক, পড়াশোনায় মন দিক, ক্যারিয়ারে সফল হোক। সেজন্যই মোবাইল-সোশ্যাল মিডিয়ার বেশি ব্যবহার নিয়েও অনেক সময় তারা একটু খিটখিট করেন বা বকাঝকা দেন। এই বিষয়টিই সহজভাবে নিতে পারে না সন্তান। তার মনে হতে পারে, তাকে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হচ্ছে। এর জেরেই ছোটখাটো কথাবার্তা থেকেও দূরত্ব তৈরি হতে পারে।

mother_6

বন্ধু নির্বাচন 

সমস্যা দেখা দেয় বন্ধু নির্বাচন বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও। এই বয়সে সন্তানের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে বন্ধুরা। মা কোনো বন্ধুকে অপছন্দ করলে বা বেশি প্রশ্ন করলে সন্তান বিরক্ত হতে পারে। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর কারণে এদিকে মা মনে করতে পারেন, সন্তান ধীরে ধীরে তার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ফলে বাড়ে দূরত্ব। 

মতের অমিল মানেই কি সম্পর্ক শেষ?

এই মতের অমিল মানেই সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাওয়া নয়। বরং এই সময় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধৈর্য, বোঝাপড়া এবং খোলামেলা কথা বলা। সন্তানের উচিত মায়ের উদ্বেগকে সম্মান করা। মা যে বিষয়ে বারণ করছেন তার পেছনে অধিকাংশ সময়ই সন্তানের ভালো থাকার চিন্তা থাকে। তাই রাগ করে চুপ না থেকে, নিজের মনকে শান্তভাবে বোঝান। মায়ের সঙ্গে সন্তানের নিজের মনের ভাব নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন।

parenting

সব দায়িত্ব কেবল সন্তানদের নয়। মায়েদেরও মনে রাখা দরকার, সন্তান বড় হচ্ছে, নিজের মতো গড়ে ওঠাটা স্বাভাবিক। এটা জীবনেরই অংশ। কিছু ক্ষেত্রে নিজের লড়াই নিজেকেই লড়তে হয়। তাই সব বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ না করে, সন্তানকে কিছুটা স্বাধীনতা দিন। এতে সম্পর্ক আরও সুন্দর হয়। সন্তানও কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়তে শেখে, তার আত্মবিশ্বাস বাড়ে।

মতভেদ হলে কটু কথা বলা, দরজা বন্ধ করে রাখা কিংবা দিনের পর দিন কথা না বলে থাকবেন না। এতে সমস্যা আরও বাড়বে। তার বদলে সময় নিয়ে আলোচনা করা জরুরি। উল্টো দিকের মানুষটার ভাবনাকে সম্মান জানান।

mom

বয়ঃসন্ধির এই পরিবর্তনের সময় মা ও সন্তানের সম্পর্ক একটু নতুন রূপ নেয়। সেখানে বন্ধুত্ব, বিশ্বাস আর সম্মান যদি বজায় থাকে, তাহলে মতের অমিল থাকলেও সম্পর্কের গভীরতা কখনও কমে না।

এনএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর