রোদের অতিরিক্ত তাপ আর আর্দ্রতা— দুটো মিলে জীবনকে করে তুলেছে অতিষ্ঠ। এই অস্বস্তির আড়ালে চিন্তার কারণ হচ্ছে আরেক বিপদ। চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন যে, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে অনেকের মধ্যে দেখা দিচ্ছে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ঝিমুনি বা মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা। বিশেষজ্ঞরা একে ‘হিট হেডেক’ বা তাপপ্রবাহজনিত মাথাব্যথা বলে সংজ্ঞায়িত করছেন।
হিট হেডেক কেন হয়?
স্নায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘক্ষণ প্রচণ্ড রোদ বা ভ্যাপসা আবহাওয়ায় থাকলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও খনিজ লবণ ঘাম হয়ে বেরিয়ে যায়। ফলে শরীরে পানির অভাব দেখা দেয়। মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাধা পায়। ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হতে পারে।

এসি ঘরে থাকলেও এমন সমস্যা হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি না খেয়ে দীর্ঘক্ষণ ল্যাপটপ বা মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের ওপর চাপ পড়ে, যা মাথাব্যথাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
হিট হেডেকের লক্ষণ
- মাথার ভেতরে দপদপ করা
- মাথা ঘোরা বা হালকা বোধ হওয়া
- কোনো কাজে মন দিতে অসুবিধা
- চরম ক্লান্তি
- চোখের ওপর চাপ
- বমি বমি ভাব
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
মাথাব্যথার সঙ্গে সঙ্গে যদি নিচের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন-
- তীব্র মাথাব্যথা সঙ্গে বমি হওয়া
- বিভ্রান্তি বা দিশেহারা বোধ করা
- দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
কাদের হিট হেডেকের ঝুঁকি বেশি?
শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যারা বেশিসময় রোদে বাইরে কাজ করেন, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও আগে থেকে যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা আছে বা যারা দীর্ঘসময় স্ক্রিনের সামনে কাটান, তাদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
হিট হেডেক থেকে বাঁচার উপায়
১. পর্যাপ্ত পানি পান:
তেষ্টা না পেলেও সারা দিন প্রচুর পানি খেলে খেতে হবে। মাঝেমধ্যে ডাবের পানি বা ওআরএস (ORS) খেতে পারেন।

২. রোদে বের হওয়ার সময়:
দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাইরে না বেরোনোই ভালো। কোনো কাজে বের হতে হলে সঙ্গে রাখুন ছাতা, রোদচশমা, টুপি।
৩. স্ক্রিন টাইম কমানো:
একটানা কাজ করবেন না। কাজের ফাঁকে কিছুক্ষণ বিরতি নিন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
৪. পোশাক:
হালকা সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরুন যেন ঘাম সহজেই শুকিয়ে যায়।
এনএম






