নারী আর মেকআপ—একে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে। নিজেকে একটু বেশি সুন্দর দেখাতে কে না চান। লিপস্টিক আর কাজলে নিজেকে রাঙালে যেন মুহূর্তেই আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় কয়েক গুণ। যদিও কোন মেকআপ কার জন্য কতটা উপযুক্ত তা নিয়ে আছে নানা মতভেদ। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, নিজেকে আরও পরিপাটি ও সুন্দর দেখাতে বাইরের কৃত্রিম এসব জিনিসের ব্যবহার শুরু হলো কবে থেকে?
মেকআপের চমকপ্রদ ইতিহাস রয়েছে যা আমাদের অনেকেরই অজানা। নিজের চেহারা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা নতুন নয় বরং হাজার বছরের চর্চা। মেকআপের কোনো নির্দিষ্ট আবিষ্কারকের নাম জানা যায় না। তবে ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে প্রাচীন মিশরে প্রথম মেকআপের ব্যবহারের স্পষ্ট প্রমাণ মেলে।
বিজ্ঞাপন

তৎকালীন মিশরে কেবল সৌন্দর্যের জন্য মেকআপ ব্যবহার করা হত না, বরং এটি ছিল সামাজিক মর্যাদা ও সম্পদের প্রতীক। যদিও মেকআপ তখন প্রায় সবার কাছেই সহজলভ্য ছিল, তবে কে কত দামী পাত্রে প্রসাধনী রাখছেন বা কী ধরনের অ্যাপ্লিকেটর ব্যবহার করছেন, সেটাই তার ধনসম্পদের পরিচয় বহন করত। অর্থাৎ সেসময় মেকআপের পণ্যের চেয়ে তা কোন পাত্রে সংরক্ষণ করা হচ্ছে সেটি ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাচীন মিশরীয়রা কীভাবে মেকআপ ব্যবহার করতেন?
মিশরীয়রা আধুনিক অর্থে মেকআপ তৈরি না করলেও, তারা এই শিল্পকে আয়ত্ত করেছিল নিখুঁতভাবে। ক্লিওপেট্রার বিখ্যাত কাজলঘেরা চোখ বা সবুজ ম্যালাকাইট আইশ্যাডোর কথা এখনও ইতিহাসে আলোচিত। তবে এই সাজ কেবল আকর্ষণীয় দেখানোর জন্য ছিল না, এর বাস্তব উপকারিতাও ছিল।
বিজ্ঞাপন

চোখের সুরক্ষা কবজ ছিল কাজল
চোখের চারপাশে যে ঘন কালো কাজল লাগানো হতো, তা চোখকে রক্ষা করত সূর্যের তীব্র আলো থেকে। এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণও ছিল। অর্থাৎ কাজল তখন ছিল একসঙ্গে ফ্যাশন এবং চোখকে সুরক্ষিত রাখার উপায়।
মিশরীয়দের বিশ্বাস ছিল, চোখে মেকআপ লাগালে অশুভ দৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। বিশেষ করে কাজল নাকি চোখকে নানা রোগ থেকে সুরক্ষা দিত। ম্যালাকাইট নামের তামার মতো একধরনের খনিজ গুঁড়ো করে তৈরি করা হতো সবুজ রঙা আইশ্যাডো। এই রংকে দেবতা হোরাসের আশীর্বাদের প্রতীক বলে মনে করা হত।

ত্বকের যত্নেও ছিল বিশেষ নজর
মেকআপের পাশাপাশি ত্বকের যত্নেও প্রাচীন মিশরীয়রা ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। ত্বক কোমল ও সুস্থ রাখতে তারা নানা প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করতেন। অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণসম্পন্ন মধু ব্যবহার করা হতো ফেসমাস্ক হিসেবে। দুধ দিয়ে গোসল করার প্রথাও ছিল, যা ক্লিওপেট্রার সঙ্গে জড়িত নানা কাহিনিতে উল্লেখ পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন- মেকআপ নিয়ে প্রচলিত যে ৯ ধারণা আসলে ভুল
এছাড়া ক্যাস্টর অয়েল, অলিভ অয়েল ও তিলের তেল ব্যবহার করা হতো মরুভূমির শুষ্ক আবহাওয়া থেকে ত্বককে রক্ষা করার জন্য। এ থেকে ধারণা করা যায়, আধুনিক স্কিনকেয়ারের বহু ধারণাই শুরু হয়েছিল সেসময় থেকে।

লিপস্টিকে থাকত পোকামাকড়
প্রাচীন মিশরীয়দের লিপস্টিক তৈরি হতো লাল ওখার গুঁড়ো ও চর্বি বা রেজিন মিশিয়ে। আরও উজ্জ্বল লাল রং আনতে অনেক সময় কারমাইন বিটল নামের পোকা গুঁড়ো করে ব্যবহার করা হতো। অর্থাৎ বর্তমানের বাগ-ইনস্পায়ার্ড বিউটি নতুন কোনও ধারণা নয়, তার শিকড় লুকিয়ে আছে বহু পুরনো ইতিহাসে।
এনএম




