কাঁধে অনেকেরই ব্যথা হয়। এই ব্যথা মানেই পেশির টান নয়। এর পেছনে দায়ী থাকতে পারে ডায়াবেটিস সম্পর্কিত একটি বিশেষ সমস্যা। যাকে অনেকেই ‘ডায়াবেটিক শোল্ডার’ বা ‘ফ্রোজেন শোল্ডার’ নামে চেনেন।
কাঁধের অস্থিসন্ধির চারপাশে একটি নরম কিন্তু মজবুত আবরণ থাকে। একে ‘ক্যাপসুল’ বলা হয়। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তশর্করার কারণে এই টিস্যুতে এক ধরনের পরিবর্তন হয়। শর্করা গিয়ে কোলাজেনের সঙ্গে মিশে সেটিকে ঘন আর আঠালো করে তোলে। ফলে ক্যাপসুল ধীরে ধীরে মোটা আর শক্ত হয়ে যায়। ফলে কাঁধের নাড়াচাড়া সীমিত হতে থাকে।
বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি এই ক্যাপসুলে প্রদাহ সৃষ্টি হলে তা ফুলে উঠে, টানটান হয়ে যায়। কাঁধে আড়ষ্টতা দেখা দেয়। কাঁধ নাড়াতে গেলে ব্যথা হয়। আর না নাড়ালে শক্ত হয়ে থাকে।
চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে কাঁধে ব্যথা হওয়াটা খুবই সাধারণ ঘটনা। চিকিৎসার পরিভাষায় যাকে ফ্রোজেন শোল্ডার বলে। কিন্তু আগে বুঝতে হবে, বিষয়টি কী।

বিজ্ঞাপন
ডায়াবেটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, কাঁধের এক পাশে বা দু’পাশে ব্যথা হচ্ছে এবং নড়াচড়া করতে অসুবিধা হচ্ছে। হাত পিছনে নিয়ে যাওয়া, চুল আঁচড়ানোর জন্য হাত ওপরে তোলা, অথবা কাপড় শুকোতে দেওয়ার জন্য হাত নড়ানো ইত্যাদি ক্ষেত্রে রোগীদের ব্যথা হতে থাকে। এই পরিস্থিতিকেই ফ্রোজেন শোল্ডার বলা হয়।
চিকিৎসকদের মতে, মানবদেহের সচল অস্থিসন্ধির (যেমন- হাঁটু, কাঁধ, কনুই) ভেতরের গহ্বরে থাকা পিচ্ছিল তরল তথা সাইনোভিয়াল ফ্লুইডের কারণেই হাড়ের ঘর্ষণ কমে, তরুণাস্থি পুষ্টি পায়, গাঁটের নড়াচড়া সহজ হয়। এই তরলটি ঘন হয়ে গেলেই এই সমস্যা দেখা যায়। তখন আর হাড়ের সক্রিয়তা এতটা থাকে না। নড়াচড়া করতে গেলেই ব্যথা হয়।

কী করবেন, কী করবেন না?
ফ্রোজেন শোল্ডার হলে ডায়াবেটিসের রোগীরা প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ খাবেন না।
দিনে ২-৩ বার ৫ মিনিট করে আইস প্যাক দিয়ে ঠান্ডা সেঁক দিতে হবে। কোনোভাবেই গরম সেঁক দেবেন না।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এইচবিএ১সি-র মাত্রা যেন সাড়ে ৬-এর নিচে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

অস্থিসন্ধিতে আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি দিতে পারেন।
ব্যথা থাকাকালীন ব্যায়াম করবেন না। এতে ব্যথা আরও বাড়তে পারে।
তবে এই ব্যথাগুলো কমতে সময় নেয়। ধৈর্য ধরে চিকিৎসা করাতে হবে। যখন-তখন ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের কথা মেনে চলুন।
এনএম




