বউ-শাশুড়ির যুদ্ধ ঘরে ঘরে। বউ তার শাশুড়িকে মায়ের মতো মানতে নারাজ। এদিকে শাশুড়ি পারেন না বউকে আপন করে নিতে। অথচ ছোটখাটো কিছু কৌশল কাজে লাগালেই সংসারে শান্তি মেলে। শাশুড়ির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাইলে তাকে কখনো কিছু কথা বলবেন না। চলুন বিস্তারিত জেনে নিই-
রান্নার ভুল ধরা
রান্নাঘর নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে ঠান্ডা লড়াই পুরনো বিষয়। শাশুড়ি রান্নার পদ্ধতি সেকেলে মনে হলেও সরাসরি সমালোচনা করবেন না। মনে রাখবেন, ছেলের কাছে তার মায়ের হাতের স্বাদই শ্রেষ্ঠ। সেই অনুভূতিতে আঘাত করা বোকামি।

স্বামীকে নিয়ে টানাটানি
'আপনার ছেলেকে আমি আপনার চেয়ে বেশি চিনি'— এই একটি বাক্যই সংসারের শান্তি নষ্ট করতে যথেষ্ট। একজন মায়ের কাছে তার সন্তানের প্রতি টান সারা জীবনের। তাই নিজের অধিকার জাহির করতে গিয়ে তাকে ছোট করবেন না।
বিজ্ঞাপন
বাপের বাড়ির সঙ্গে তুলনা
আপনার বাপের বাড়ি যতই রাজকীয় বা আধুনিক হোক না কেন, শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে তার তুলনা টানবেন না। বার বার নিজের বাপের বাড়ির শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করলে শাশুড়ি অপমানিত বোধ করতে পারেন। তার চেয়ে বরং বাড়ির নিজস্ব নিয়মকে সম্মান দিন।

উপহারের মান নিয়ে প্রশ্ন
শাশুড়ির দেওয়া শাড়ি বা গয়না আপনার পছন্দ না-ই হতে পারে। তাই বলে তার সামনে কখনো সেই উপহারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না। বরং তার স্নেহের দান হিসেবে সেটি যত্ন করে রাখুন, এতে সম্পর্ক গভীর হয়।
দাম্পত্য কলহ নিয়ে আলোচনা
স্বামী-স্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত বা দাম্পত্য কলহ খুব স্বাভাবিক বিষয়। এসব নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে আলোচনা করতে যাবেন না। এটি যেমন তার জন্য অস্বস্তিকর, তেমনই আপনার ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। সম্পর্কে গোপনীয়তা বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আপনি কিছু বোঝেন না
তার পরামর্শ আপনার পছন্দ না ই হতে পারে। তাই বলে সরাসরি 'আপনি কিছু বোঝেন না' বলবেন না। বরং তার কথা মন দিয়ে শুনে নিজের যুক্তিটা নম্রভাবে তাকে বুঝিয়ে বলুন। এতে তার অসম্মান হয় না এবং আপনার গুরুত্বও বজায় থাকে।
মনে রাখবেন, শাশুড়ি-বউমার সম্পর্কটা অনেকটা কাচের মতো। একটু যত্নে রাখলে এটিই হতে পারে আপনার জীবনের বড় আশ্রয়। কিছু কথা মনের ভেতরে রাখলে যদি সংসারে শান্তি আসে, তবে সেই গোপনীয়তাটুকু বজায় রাখাই শ্রেয়।
এনএম




