টানা কয়েক সপ্তাহের তীব্র তাপপ্রবাহ আর কাঠফাটা রোদে যখন ঢাকাবাসীর প্রাণ ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই যেন আশীর্বাদ হয়ে এলো এক পশলা বৃষ্টি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে তপ্ত রাজপথে নামলো বৃষ্টির ধারা। আর এতেই শহরের কংক্রিটের দেয়ালে আর মানুষের মনে নেমে এসেছে পরম স্বস্তি।
গত সপ্তাহের আগের কয়েক সপ্তাহে রাজধানীসহ সারা দেশেই বইছিল তীব্র দাবদাহ। ফ্যানের বাতাসেও শরীর জুড়াচ্ছিল না, বাইরে বেরোলেই মনে হচ্ছিল যেন লু হাওয়া গায়ে লাগছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, রিকশাচালক, ট্রাফিক পুলিশ ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের অবস্থা ছিল সবচেয়ে শোচনীয়। আকাশের দিকে তাকিয়ে সবাই যেন চাতক পাখির মতো এক ফোঁটা বৃষ্টির জন্য প্রহর গুনছিলেন।
বিজ্ঞাপন

অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। হঠাৎ করেই আকাশ কালো করে মেঘ জমে, এরপরই শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। শুকিয়ে যাওয়া গাছপালা, ধুলোমাখা রাস্তাঘাট আর উত্তপ্ত পিচঢালা পথ মুহূর্তেই শীতল হয়ে ওঠে। রাস্তায় বের হওয়া অনেককেই দেখা গেছে ছাতা বন্ধ করে প্রাণভরে বৃষ্টিতে ভিজতে। যান্ত্রিক শহরের ব্যস্ত মানুষগুলো যেন এক মুহূর্তের জন্য ফিরে পেয়েছিল শৈশবের বাঁধভাঙা উল্লাস।
ঢাকার বৃষ্টি মানেই যানজট আর কিছু নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার চেনা দুর্ভোগ। এদিনও তার খুব একটা ব্যতিক্রম হয়নি। তবে টানা গরমের যে অসহনীয় কষ্ট, তার কাছে এই সাময়িক দুর্ভোগকে একেবারেই তুচ্ছ মনে হয়েছে নগরবাসীর কাছে। যানজটে আটকে থাকা বাসের জানালায় হাত রেখে, কিংবা রাস্তার ধারের চায়ের টংয়ে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির শব্দ শুনে অনেকেই পার করেছেন দারুণ কিছু প্রশান্তির মুহূর্ত।

বিজ্ঞাপন
মতিঝিল এলাকার এক ব্যাংক কর্মকর্তা হাসিমুখে বলছিলেন, ‘যে গরম পড়েছিল, মনে হচ্ছিলো শহরটা যেন চুলা হয়ে গেছে। আজকের এই বৃষ্টিটা আক্ষরিক অর্থেই জীবন বাঁচালো।’
প্রকৃতি যেন নিজ হাতে ধুয়ে দিয়েছে শহরের সব ক্লান্তি। এই বৃষ্টি শুধু পরিবেশকেই শীতল করেনি, স্বস্তি এনে দিয়েছে প্রতিটি মানুষের মনে। আপাতত এই বর্ষণমুখর স্নিগ্ধতার হাত ধরেই প্রশান্তিতে শ্বাস নিক ব্যস্ত নগরী—এমনটাই প্রত্যাশা রাজধানীবাসীর।
লেখক: এক্সিকিউটিভ, ইউএস-বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেড
এনএম




