কাঁচা বাজার, মাছ, মাংস, গ্যাস, তেল— সবকিছুর দামই ক্রমশ বাড়ছে। টান পড়ছে সংসারের খরচে। দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে অনেক পরিবারেই মাসের শেষের দিকে এসে আর্থিক চাপ বাড়ছে। এতকিছুর ভিড়ে টাকা সঞ্চয়ের চেষ্টা থাকলেও তা আর হয়ে ওঠে না। আবার অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, কিছু টাকা সঞ্চয় করতে গেলে প্রিয় খাবার খাওয়া কিংবা নতুন পোশাক কেনা থেকে বিরত থাকা লাগে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঞ্চয় মানে জীবনের সব আনন্দ থেকে নিজেকে দূরে রাখা নয়। ইন্টুইট ক্রেডিট কার্মার কনজ্যুমার ক্রেডিট উপদেষ্টা কোর্টনি অ্যালেভের মতে, সঞ্চয়ের জন্য আনন্দ পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছু সহজ কৌশল ও অভ্যাস গড়ে তুললেই চাপ ছাড়াই স্মার্টভাবে সঞ্চয় করা যায়।
বিজ্ঞাপন
নরওয়ের লাইফস্টাইল বিষয়ক একটি গবেষণা ও পরামর্শমূলক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা এমন তিনটি কৌশলের কথা উল্লেখ করেছেন, যা কাজে লাগিয়ে সহজেই অর্থ সঞ্চয় করা যায়। চলুন বিস্তারিত জেনে নিই-
খরচ না কমিয়ে সঞ্চয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন
অনেকেই সঞ্চয় করতে গেলে কঠোর নিয়ম আরোপ করেন। যেমন বাইরে খাওয়া বন্ধ করা বা নতুন পোশাক না কেনা। কিন্তু এমন কঠোর সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ধরে রাখা কঠিন। এর পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা ভালো। যেমন, রোজকার খরচ থেকে প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আলাদা করে রাখুন। এতে সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি হয় এবং মানসিক চাপও কমে।
বিজ্ঞাপন

সঞ্চয়কে নিয়মিত বিল মনে করুন
বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেট বিল যেভাবে নিয়মিত পরিশোধ করা হয়, সেভাবেই সঞ্চয়কেও একটি বাধ্যতামূলক ব্যয় হিসেবে ধরুন। প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নির্ধারণ করে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঞ্চয় অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করুন বা আলাদা করে রাখুন। এতে খরচের আগে সঞ্চয় নিশ্চিত হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভব হলে এই অর্থ উচ্চ সুদযুক্ত সঞ্চয় অ্যাকাউন্টে রাখা উচিত, যাতে তা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।
কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক ও রিওয়ার্ড সুবিধা ব্যবহার করুন
দৈনন্দিন কেনাকাটা, অনলাইন শপিং কিংবা বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে অনেক প্ল্যাটফর্মে ক্যাশব্যাক বা রিওয়ার্ড সুবিধা পাওয়া যায়। নিয়মিত এসব সুবিধা ব্যবহার করলে অল্প অল্প করে হলেও একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সঞ্চিত হয়। এই ক্যাশব্যাক আলাদা করে রাখলে সময়ের সঙ্গে তা বড় অঙ্কে পরিণত হতে পারে।

মনে রাখবেন, সঞ্চয় মানে বড় আয় বা কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললেই সীমিত আয়ের মধ্যেও নিয়মিত অর্থ সঞ্চয় করা সম্ভব।
এনএম




