খাবারে লবণ একটু কম হলেই খাবার বিস্বাদ হয়ে ওঠে। আবার কোনো কারণে লবণ একটু বেশি হয়ে গেলে পুরো খাবারই নষ্ট হয়ে যায়। লবণের মাত্রা একটু এদিক-ওদিক হলেই মুশকিল। তবে কেবল স্বাদের কথা ভাবলে চলবে না। স্বাস্থ্যের দিকও দেখতে হবে। বিশেষ করে যারা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন তাদের লবণ খেতে হয় বুঝে শুনে।
চিকিৎসকদের মতে, শরীরে যতই সোডিয়ামের প্রয়োজনীয়তা থাকুক, লবণের পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সারাদিনে ৫ গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়।
বিজ্ঞাপন

অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার কারণে বাড়তে পারে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা। যা পরবর্তীতে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া কিডনির সমস্যা, বাতের সমস্যাও বাড়ে। শুধু যে কাঁচা লবণ খেলেই এসব রোগ হানা দেয়, তা নয়। অনেক খাবারেই লুকিয়ে থাকে লবণ। কীভাবে খাবারে লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করবেন চলুন জেনে নিই-
প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলুন
প্যাকেটজাত বা প্রক্রিয়াজাত খাবারে অত্যধিক মাত্রায় সোডিয়াম থাকে। মাখন, চিপস থেকে শুরু করে পাউরুটি, কেক, বিস্কুটেও সোডিয়াম থাকে। এমনকী ফ্রোজেন খাবারে সোডিয়াম থাকে। তাই এমন খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।
বিজ্ঞাপন

সস খাওয়া কমান
সয়া সস, টমেটো সস, চিলি সস, মেয়োনিজের মতো খাবারে লবণ থাকে। এমনকী কাসুন্দি, রেডিমেড চাটনি এবং নির্দিষ্ট কিছু আচারেও প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম রয়েছে। খাবারে এধরনের উপাদান যত কম ব্যবহার করা যায়, ততই ভালো।
হাতের সামনে কাঁচা লবণ রাখবেন না
টেবিল সল্ট থেকে দূরে থাকুন। স্বাদ বুঝে রান্নায় লবণ মেশান। চেষ্টা করুন কম লবণ দিয়ে রান্না করার। প্রথম দিকে অস্বস্তি হলেও ধীরে ধীরে এটি অভ্যাস হয়ে যাবে। খাবারে লবণ হওয়া সত্ত্বেও পাতে কাঁচা লবণ নেওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। বরং, খাবারে স্বাদ আনতে ভাজা জিরা গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, গরম মসলার গুঁড়ো কিংবা গোলমরিচের গুঁড়ো ব্যবহার করতে পারেন।

রেস্তোরাঁর খাবার খাওয়া কমান
রেস্তোরাঁর খাবারেও যথেষ্ট মাত্রায় লবণ থাকে। বাইরের খাবারে বেশি মাত্রায় সোডিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে। তাই বাইরের খাবার না খেয়ে বাড়িতেই সেসব পদ বানিয়ে নিন। প্রয়োজনে গ্রিল করা বা বিনা তেলে ভাজা খাবার খেতে পারেন।
এনএম




