বর্তমানে কিডনি সংক্রান্ত রোগে ভোগা ব্যক্তির হার ক্রমশ বেড়েই চলেছে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, ভুল খাদ্যাভ্যাস এর জন্য দায়ী। কিডনি সমস্যা কিন্তু হুট করে দেখা দেয় না। শরীরের বেশ কিছু লক্ষণ কিডনির ক্ষতির ইঙ্গিত দেয়। চলুন এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিই-
ত্বক অতিরিক্ত রুক্ষ হয়ে যাওয়া
কিডনির সমস্যার সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে একটি হলো ত্বকের অতিরিক্ত রুক্ষ হয়ে যাওয়া। এই অবস্থায় ত্বক খসখসে, শুষ্ক ও টানটান অনুভূত হয়। অনেক সময় ত্বকে ছোট ছোট আঁশের মতো স্তর তৈরি হয় এবং ফাটল ধরতে শুরু করে। তখন ত্বক দেখতে অনেকটা মাছের চামড়ার মতো লাগে, যা সাধারণত শুষ্ক ত্বকের গুরুতর লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।

চুলকানি
কিডনি রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে চুলকানি। এই চুলকানি শরীরের কোনো নির্দিষ্ট অংশে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে, আবার অনেকক্ষেত্রে সারা শরীরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। গুরুতর অবস্থায় এই সমস্যা এতটাই বাড়তে পারে যে তা দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করতে শুরু করে।
বিজ্ঞাপন
ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তে বিষাক্ত পদার্থ জমা হতে শুরু করে। এর প্রভাব ত্বকের ওপরও স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ত্বকের রঙ হলুদ, ধূসর বা অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে হয়ে যেতে পারে। কিছুক্ষেত্রে ত্বক পুরু হয়ে যায় এবং তার ওপর হলুদাভ স্তর তৈরি করে। এটি কিডনি সমস্যার একটু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

নখে দাগ
নখের পরিবর্তনও কিডনি সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। নখের ওপরের অংশ সাদা এবং নিচের অংশে বাদামী বা লাল ভাব দেখা যেতে পারে। মাঝে মাঝে নখের ওপর সাদা রেখা দেখা যায়, যা হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
শরীরে ফোলাভাব
শরীরে ফোলাভাব অর্থাৎ এডিমা (edema), কিডনি বিকলের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। সাধারণত পা, গোড়ালি, হাত বা মুখে এই ফোলাভাব দেখা যায়। আক্রান্ত স্থানের ত্বক টানটান বা অস্বাভাবিকভাবে উজ্জ্বল দেখাতে পারে। এটি শরীরে অতিরিক্ত তরল জমার ইঙ্গিত দেয়।

ত্বকে র্যাশ
রক্তে টক্সিনের মাত্রা বেড়ে গেলে ত্বকে ফুসকুড়ি বা র্যাশ দেখা দিতে পারে। সাধারণত এগুলো ছোট ছোট ফোলা দানার মতো হয়, যা প্রচণ্ড চুলকানির সৃষ্টি করে। অনেকসময় এগুলো সেরে যাওয়ার পর আবারও ফিরে আসতে পারে।
পেটের আশেপাশে ফোলাভাব
পেট বা কোমরের আশেপাশে কোনো নতুন গাঁট বা ফোলা দেখা গেলে তা কখনো উপেক্ষা করা উচিত নয়। এটি কিডনি সংক্রান্ত গুরুতর সমস্যা, এমনকি ক্যানসারের ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, যেন সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করা যায়।
এনএম




