শরীরের কোথাও কেটে গেলে বা ছড়ে গেলে কিছুক্ষণ পর কাটা জায়গায় রক্ত জমাট বেঁধে যায়। ক্ষত যদি গভীর হয় তাহলে একটানা কিছুক্ষণ রক্তপাত হয় বটে। সেটিও কিছু সময় পর বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এমন হয় যে, রক্ত পড়া কিছুতে বন্ধ হচ্ছে। ওষুধ, ব্যান্ডেজ কিছু দিয়েই লাভ হচ্ছে না। এমনটা হলে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে।
চিকিৎসার পরিভাষায় এমন সমস্যাকে হিমোফিলিয়া বলে যা জটিল এক অসুখ। সময়মতো সতর্ক না হলে এটি প্রাণ সংশয়ের কারণ হতে পারে।
বিজ্ঞাপন

হিমোফিলিয়া কতটা ভয়াবহ?
শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার জন্য কিছু প্রোটিন থাকে। এগুলো ‘ক্লটিং ফ্যাক্টর’ বলা হয়। যদি সেসব প্রোটিনের ঘাটতি হয়, তখন রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না। হিমোফিলিয়া হলে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফ্যাক্টর-৮ ও ফ্যাক্টর-৯ প্রোটিন তৈরি হতে পারে না। ফলে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না। তাই সামান্য আঘাতেও রক্ত পড়া বন্ধ হয় না।
কেবল শরীরের বাইরে নয়, শরীরের ভেতরেও নানা অঙ্গে এই রক্তক্ষরণ চলতে থাকে, যা রোগীকে ‘মাল্টিঅর্গ্যান ফেলিয়োর’-এর দিকে নিয়ে যায়। একে ‘রেড ব্লাড ডিজঅর্ডার’। সাধারণত দেখা যায়, এই প্রোটিনগুলো যে জিনে থাকে সেই জিনে মিউটেশন বা রাসায়নিক বদল হলে এমন অসুখ হয়।
বিজ্ঞাপন

যেসব লক্ষণে বুঝবেন হিমোফিলিয়া আছে
হিমোফিলিয়া আছে কি না, তা প্রাথমিক পর্যায়ে বোঝা যায় না। ধীরে ধীরে রোগের লক্ষণ প্রকট হতে থাকে। খেয়াল করতে হবে সামান্য কেটে গেলে বা ছড়ে গেলে কতক্ষণ ধরে রক্তপাত হচ্ছে। যদি দেখা যায় বরফ চেপে বা ওষুধ দিয়ে, ব্যান্ডেট লাগিয়েও রক্ত পড়া থামানো যাচ্ছে না, তখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। এছাড়াও যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন-
- হাঁটু, কনুই এবং গোড়ালিতে মাঝেমধ্যেই তীব্র যন্ত্রণা হবে ও ফুলে যাবে।
- বড় কোনো আঘাত ছাড়াই শরীরের নানা জায়গায় মাঝেমধ্যেই কালচে বা নীলচে ছোপ অথবা কালশিটে পড়বে। অনেকটা জায়গা জুড়ে কালশিটে পড়তে দেখা যাবে।
- যখন তখন নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মাড়ি থেকে রক্তপাত, ব্রাশ করার সময়ে মাড়ি লাল হয়ে ফুলে ওঠার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
- কোষ্ঠকাঠিন্য বা অর্শের সমস্যা ছাড়াই মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হবে, প্রস্রাবের সঙ্গেও রক্ত বের হতে পারে।
- মাথা ব্যথা সারতে চাইবে না, সবসময়েই বমিভাব থাকবে। মস্তিষ্কের ভেতরে রক্তক্ষরণ হতে থাকলে এই উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সতর্ক না হলে যা স্ট্রোকে ঝুঁকি বাড়াবে।

হিমোফিলিয়া পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়। তবে সঠিক চিকিৎসায় স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব। পুরুষরা হিমোফিলিয়ায় বেশি ভোগন, নারীরা কেবল রোগের বাহক হন। ফ্যাক্টর-৮ ইঞ্জেকশন দিয়ে হিমোফিলিয়া রোগীকে স্বাভাবিক রাখা হয়।
এই রোগ থাকলে বেশি ব্যথানাশক ওষুধ খেতে মানা করা হয়। এছাড়া খেলাধুলার সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি, নিয়মিত দাঁতের যত্ন ও পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াও প্রয়োজন।
এনএম




