বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

গরমে মেটে না তৃষ্ণা? মাটির কলসি ব্যবহারে মিলবে নানা উপকারিতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১২ পিএম

শেয়ার করুন:

গরমে মেটে না তৃষ্ণা? মাটির কলসি ব্যবহারে মিলবে নানা উপকারিতা
মাটির কলসিতে পানি প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা থাকে (ছবি- এআই)

গরমে জীবনে হয়ে উঠেছে অসহনীয়। তৃষ্ণার্ত মানুষ যেন হয়ে গেছে চাতক পাখি। পানি ঠিকই খাওয়া হয়, কিন্তু তৃপ্তি মেটে না। ফ্রিজের ঠান্ডা পানি খেলে বাড়ে ঠান্ডা-জ্বরের আশঙ্কা। এমন পরিস্থিতিতে আপনার বন্ধু হতে পারে মাটির কলসি। 

একসময় তীব্র গরমে মাটির কলসিতে পানি রেখে খাওয়ার চল ছিল প্রায় প্রতিটি ঘরে। সময়ের পরিক্রমায় সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে ফ্রিজ। তবে ফ্রিজ ছাড়া শীতল পানিতে গলা ভেজাতে চাইলে ঘরে একটা মাটির কলসি রাখতেই হবে। 


বিজ্ঞাপন


kalshi

মাটির কলসিতে পানি ঠান্ডা থাকে কেন?

প্রাকৃতিকভাবে শীতল করার বৈশিষ্ট্য রয়েছে মাটির। তাই অনেক গরমেও মাটির কলসিতে পানি ঠান্ডা থাকে। মাটির কলসির গায়ে লাখ লাখ ছোট ছোট ছিদ্র থাকে। এই ছিদ্রগুলো খালি চোখে দেখা যায় না। এই ছিদ্রগুলো দিয়ে পানি চুঁইয়ে কলসির বাইরে চলে আসে। এরপর বাষ্প হয়ে আকাশের দিকে উড়ে যেতে চায়। কিন্তু উড়তে গেলে দরকার পড়ে তাপের। বাষ্প হওয়ার জন্য পানির যে তাপের প্রয়োজন হয়, তা মাটির কলসির ভেতরের পানি থেকে আসে। ফলে কলসির ভেতরের পানির তাপ কমে যায়। আর এই কারণেই পানি ঠান্ডা থাকে। 

মাটির কলসিতে পানি খাওয়ার উপকারিতা

গরমকালে মাটির কলসি, জগ ও গ্লাস ব্যবহার করলে পানি যেমন ঠান্ডা থাকে, তেমন উপকার হয় শরীরের। মাটির কলসিতে পানি রাখলে যেসব উপকারিতা মেলে তা হলো-

kalshi_1

১. প্রাকৃতিকভাবে পানি ঠান্ডা রাখে

মাটির কলসি সঞ্চিত পানির তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে। কারণ কলসির গায়ে অসংখ্য ছিদ্র থাকে। এসব ছিদ্র দিয়ে পানি বের হয়ে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। কিন্তু বাষ্প হওয়ার সময় কলসির পানি থেকে সুপ্ততাপ গ্রহণ করে নেয়। ফলে পানির তাপমাত্রা কমে যায় এবং পানি ঠান্ডা হয়ে যায়। ফ্রিজের ঠান্ডা পানি খেলে সর্দি-কাশির ঝামেলা হতে পারে। কিন্তু মাটির পাত্রে রাখা প্রাকৃতিক ঠান্ডা পানি খেলে সে আশঙ্কা আর থাকে না।

২. ক্ষারীয় ভারসাম্য

মাটির পাত্রের পানিতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়ামের মতো খনিজ পদার্থ মেশে। তাই এই পানি পান করলে পেটের বিভিন্ন প্রকার অ্যাসিড কিছুটা প্রশমিত হয়। পাশাপাশি অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং শরীরের পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক থাকে।

kalshi_2

৩. পানির স্বাদ ও সতেজতা মেলে

মাটিতে থাকা বিভিন্ন খনিজের কারণে পানির স্বাদ বেড়ে যায়। মাটির পাত্রের ছিদ্রযুক্ত পৃষ্ঠ বাতাস চলাচলের জন্য উপযুক্ত। তাই পানির সতেজতা বজায় থাকে।

৪. হজমশক্তি উন্নত করে 

মাটির পাত্রে সঞ্চিত পানি হজমে সাহায্য করে এবং পরিপাকতন্ত্রের উন্নতি করে। এই পানির ক্ষারীয় প্রকৃতি পাকস্থলীর অম্লতা কমায় ও বদহজম এবং বুকজ্বালার উপসর্গগুলো উপশম করে।

kalshi_3

৫. পুষ্টির সংরক্ষণ

প্লাস্টিক বা ধাতব পাত্রে পানি রাখলে ক্ষতিকারক রাসায়নিক বা দূষিত পদার্থ মিশে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। মাটির পাত্রে এই ভয় নেই। পানির প্রাকৃতিক গঠন অক্ষত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং খনিজ সংরক্ষণ করে মাটির পাত্র।

৬. পরিবেশবান্ধব সমাধান

পানি সংরক্ষণের জন্য মাটির পাত্র বেছে নেওয়া প্লাস্টিকের বোতল বা পাত্রের পরিবেশবান্ধব বিকল্প। মাটির পাত্র প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি বলে পরিবেশগতভাবে টেকসই। প্লাস্টিকের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করে এটি।

এই গরমে প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা পানির তৃষ্ণা মেটাতে তাই ভরসা রাখতে পারেন মাটির কলসিতে। 

এনএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর