রেশম কালো চুলে মুগ্ধ হন না এমন মানুষ কমই আছেন। তাইতো মাথায় এক দুটো রূপালি রেখা দেখা দিলেই চিন্তার ভাঁজ পড়ে কপালে। এ যেন বয়স বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত। আসলেই কি তাই? চুল পেকে যাওয়া মানে কি বয়স বেড়ে যাওয়া? না কি অন্য কোনো ইঙ্গিত দেয় এটি?
চিকিৎসকরা বলছেন, পাকা চুল চোখে পড়ার অনেক আগেই শুরু হয়ে যায় চুলের বুড়িয়ে যাওয়া। গবেষক, চিকিৎসকরা মনে করেন ‘চুলের অকালপক্কতা বা পাতলা হয়ে যাওয়া আসলে চুলের গোড়া বা ফলিকলের ভেতরে ঘটে যাওয়া দীর্ঘস্থায়ী জৈবিক পরিবর্তনের ফল।’
বিজ্ঞাপন

চুলের গোড়ায় কী ঘটে?
প্রতিটি চুলের গোড়া বা ফলিকল শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো কাজ করে। তরুণ বয়সে চুলের বৃদ্ধির চক্র (Growth Cycle) স্থিতিশীল থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই চক্রে পরিবর্তন আসে। চুলের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির সময় সংকুচিত হয়। একটি চুল ঝরে যাওয়ার পর নতুন চুল গজাতে আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে। মজবুত চুলগুলো ক্রমশ দুর্বল হতে শুরু করে।
চুল পাকে কেন?
চুল বুড়িয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো অক্সিডেটিভ স্ট্রেস (Oxidative Stress)। দূষণ, অতিবেগুনি রশ্মি, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা এবং মানসিক চাপ চুলে প্রভাব ফেলে। এসবের কারণে স্ক্যাল্পের ভেতরে ক্ষতিকারক মলিকিউলের পরিমাণ বেড়ে যায়। এটি চুলের স্টেম সেলগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে কমে যায় নতুন চুল গজানোর ক্ষমতা।

পাশাপাশি, স্ক্যাল্পে হতে থাকা প্রদাহ চুলের গোড়াকে দুর্বল করে দেয়। বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও এই কারণেও কিন্তু চুলের আয়ু কমতে থাকে। রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়ার কারণে চুলের ফলিকলগুলো পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না, যার চূড়ান্ত ফলাফল হলো চুল পাতলা হয়ে যাওয়া।
চুল পাকার সঙ্গে সঙ্গে তাই পাতলা হতে শুরু করে। কারণ, অক্সিডেটিভ ড্যামেজ চুলের পিগমেন্ট বা রং তৈরির কোষগুলোকে নষ্ট করে। একই প্রক্রিয়া চুলের গোড়াকেও দুর্বল করে দেয়। ফলে চুলের রং হারানো আর ঘনত্ব কমে যাওয়া— দু'টি ঘটনাই প্রায় একইসঙ্গে ঘটে।

আধুনিক গবেষণা অনুযায়ী, কেবল শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার মেখে চুলের বার্ধক্য রোধ করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি প্রয়োজন স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে তোলা, অক্সিডেশন বা কোষের ক্ষয় কমানো এবং ফলিকলের কার্যকারিতা পুনরুজ্জীবিত করা। এগুলোর মাধ্যমে পুনরায় চুলের ঘনত্ব বা রং ফিরে পাওয়া সম্ভব।
এনএম

