সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

চার দেয়ালের মধ্যেই হোক শতভাগ বাঙালি আয়োজন

তানজিদ শুভ্র
প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৪ এএম

শেয়ার করুন:

চার দেয়ালের মধ্যেই হোক শতভাগ বাঙালি আয়োজন
অন্দরে বৈশাখ আয়োজন (ছবি- এআই)

পহেলা বৈশাখ মানেই রমনায় ভিড় আর কাঠফাটা রোদে ঘোরাঘুরি, এমন ধারণা এখন অনেকটাই বদলে গেছে। তীব্র গরম আর যানজট এড়িয়ে অনেকেই এখন উৎসবের দিনটিতে ঘরে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন। তবে ঘরে থাকা মানেই কিন্তু উৎসব থেকে দূরে থাকা নয়। বরং বন্ধু আর প্রিয়জনদের নিয়ে শহুরে ফ্ল্যাটের চার দেয়ালেই তৈরি করতে পারেন জমজমাট এক ‘বৈঠকী’ বৈশাখ।

একটু সৃজনশীলতা আর দেশীয় উপাদানের ছোঁয়া থাকলে আপনার ড্রয়িংরুমই হয়ে উঠতে পারে উৎসবের মূল কেন্দ্রবিন্দু। চলুন জেনে নিই কীভাবে ঘরে বসেই নববর্ষের এই আনন্দময় আয়োজন করা যায়।


বিজ্ঞাপন


pohela_baishakh

অন্দরসাজে দেশীয় ছোঁয়া: 

উৎসবের আমেজ আনতে পুরো ঘর নতুন করে সাজানোর দরকার নেই। বসার ঘরের যেকোনো একটি দিক বেছে নিন। সোফার কুশন কভারে আনতে পারেন গামছা প্রিন্ট বা দেশীয় মোটিফ। সেন্টার টেবিলে বিছিয়ে দিতে পারেন সুতির রানার। মাটির ফুলদানিতে কয়েকটি রজনীগন্ধা বা গাঁদা ফুল মুহূর্তেই ঘরের রূপ বদলে দেবে। চাইলে দরজার সামনে বা ঘরের এক কোণে ছোট করে আলপনাও এঁকে নিতে পারেন।

বসার আয়োজনে ‘বৈঠকী’ আমেজ: 

বাঙালি আড্ডা জমানোর জন্য মেঝেতে বসার কোনো বিকল্প নেই। মেঝেতে একটি বড় শতরঞ্জি বা শীতল পাটি বিছিয়ে দিন। চারপাশে ছড়িয়ে দিন বেশ কয়েকটি রঙিন কুশন। এই আয়োজন শুধু দেখতেই ভালো লাগবে তা নয়, আড্ডায় একটা দারুণ ঘরোয়া ও আরামদায়ক অনুভূতিও আনবে। ভারী সোফা বা চেয়ারের চেয়ে এই ধরনের বসার জায়গা উৎসবের আমেজকে আরও নিবিড় করে।

food_1

আপ্যায়নে স্নিগ্ধতা ও স্বাদ: 

কাঠফাটা গরমে ভারী খাবারের চেয়ে প্রশান্তিদায়ক পানীয়ের কদর বেশি। অতিথিদের স্বাগত জানাতে পারেন কাঁচা আম বা বেলের শরবত, তরমুজ বা তেঁতুলের জুস দিয়ে। গতানুগতিক পান্তা ইলিশের বাধ্যবাধকতা থেকে বেরিয়ে দেশীয় পিঠাপুলি, মুড়ি, বাতাসা বা কয়েক প্রকারের নাড়ু রাখতে পারেন। দুপুরের খাবারে থাকতে পারে সাদা ভাত, নানা পদের ভর্তা, ডাল আর যেকোনো দেশীয় মাছ বা মাংসের সাধারণ রান্না। পরিবেশনের জন্য ব্যবহার করতে পারেন মাটির প্লেট, গ্লাস ও বাটি, যা আয়োজনে আনবে শতভাগ বাঙালিয়ানা।

আড্ডা আর লোকজ বিনোদন:  

বৈঠকী আয়োজনের মূল আকর্ষণই হলো আড্ডা। আড্ডার ফাঁকে ব্যাকগ্রাউন্ডে হালকা আওয়াজে বাজতে পারে রবীন্দ্রসংগীত, লালন বা বাংলার লোকজ কোনো সুর। উৎসবের এই দিনটিতে স্মার্টফোন দূরে সরিয়ে রেখে মেতে উঠতে পারেন লুডু, ক্যারম বা তাস খেলায়। পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ বা গান ও কবিতার আসরও জমতে পারে এই আড্ডায়।

food_2

নববর্ষের মূল আনন্দ লুকিয়ে থাকে প্রিয় মানুষদের সাথে সময় কাটানোর মাঝে। তাই বাইরে যাওয়ার সুযোগ না থাকলেও কোনো আক্ষেপ নেই। একটু আন্তরিকতা থাকলে শহুরে ফ্ল্যাটের এই ‘বৈঠকী’ বৈশাখ আপনার ও আপনার অতিথিদের জন্য হতে পারে দারুণ এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

এনএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর