ক্যানসারের কথা বললেই আলোচনায় আসে স্তন, ফুসফুস কিংবা লিভারের ক্যানসারের কথা। তবে অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারকেও অবহেলা করা চলবে না। প্রতিবছর ১০ হাজারের বেশি মানুষ এই ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন।
নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিমের মধ্যে থাকা গেডুনিন (Gedunin) নামক বিশেষ যৌগ অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার মোকাবিলার ক্ষেত্রে কেমোথেরাপির তুলনায় বেশি কার্যকরী।
বিজ্ঞাপন
নিমের ‘গেডুনিন’ কীভাবে কাজ করে?
গবেষকদের মতে, নিমে মধ্যে থাকা এই 'গেডুনিন' নামক যৌগটি ক্যানসার কোষের বৃদ্ধির জন্য দায়ী ‘সনিক হেজহগ’ (Sonic Hedgehog - Shh) নামক সিগন্যালিং পাথওয়েকে বাধা দেয়। ফলে যে লাভ হয় তা হলো-
কোষের মৃত্যু: এটি ক্যানসার কোষকে নিজে থেকে ধ্বংস করে দেয় (Apoptosis)।

বিজ্ঞাপন
সংক্রমণ রোধ: ক্যানসার যাতে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে (Metastasis) না পড়ে, তাতে বাধা দেয়।
কম বিষক্রিয়া: প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় এটি শরীরের সুস্থ কোষের ওপর অনেক কম নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ক্যানসার নিরাময় ছাড়াও নিমের অন্যান্য স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে। এগুলো হলো-
ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে:
দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষায় নিমের মাজন বা মাউথওয়াশ অত্যন্ত কার্যকর।

ত্বকের সুরক্ষা:
ব্রণ থেকে এগজিমা— নিমের গুণে সবই সেরে যেতে পারে। কারণ, এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ রয়েছে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ:
বেশ কিছু গবেষণা বলছে, নিম ইনসুলিনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা:
নিমের ভেষজ গুণ শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে সংক্রমণ রোধে সাহায্য করে।
জেনে রাখা ভালো
গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক স্তরে (ল্যাবরেটরি ও প্রি-ক্লিনিক্যাল) রয়েছে। তাই নিমকে ক্যানসারের বিকল্প চিকিৎসা ভাবা যাবে না। নিম পাতা, নিম তেল বা নিমের নির্যাস দিয়ে তৈরি ক্যাপসুল ব্যবহারের আগে মনে রাখতে হবে, ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়া (Self-medication) বিপজ্জনক।
যেকোনো সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অতিরিক্ত পরিমাণে নিমপাতা খেলে হিতে বিপরীতও হতে পারে।
এনএম

