দিনকে দিন বাড়ছে যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা। যক্ষ্মার ব্যাকটেরিয়া মাইকো ব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস খুব দ্রুত সংখ্যায় বাড়ে। এছাড়া সাধারণত শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলেও এ ধরনের সংক্রমণ সহজেই বাড়ে। পরিচ্ছন্নতার অভাব ও অপুষ্টিও এর জন্য সমান দায়ী।
সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, টিবির চিকিৎসায় আর পুষ্টিকে উপেক্ষা করা যাবে না। প্রতিষেধক নেওয়ার পাশাপাশি ডায়েটের দিকেও সমান নজর দেওয়া জরুরি। এতে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়।
বিজ্ঞাপন

ডায়াবেটিস, এইডের রোগী বা ক্যানসারের রোগীদের মধ্যে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এই ধরনের রোগীদের খাওয়াদাওয়া নিয়ে আরও সচেতন হওয়া দরকার।
গবেষণা বলছে, যক্ষ্মা চিকিৎসা চলার সময়ে শরীরের মেটাবলিজমে বড় পরিবর্তন ঘটে। সেসময়ে যদি শরীরে পুষ্টির ঘাটতি থাকে, তখন রোগীর সেরে উঠতেও অনেক সময় লেগে যায়। যক্ষ্মার ব্যাকটেরিয়া শরীরের সব পুষ্টি শুষে নেয় এবং শরীরকে দুর্বল করে তোলে। টিবি-তে আক্রান্ত হলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়। আর তার ওপর যদি অপুষ্টিতে ভোগেন, তখন সুস্থ হয়ে উঠতে অনেক সময় লেগে যায়।

বিজ্ঞাপন
যক্ষ্মার চিকিৎসায় বড় ভূমিকা পালন করে অ্যান্টিবায়োটিক। ওষুধ তখনই কাজ দেয় যখন শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন ইত্যাদি থাকে। যক্ষ্মার রোগীদের সুস্থ হয়ে উঠতে হলে রোজকার পাতে প্রতি কিলোগ্রাম ওজনে ১ গ্রাম করে প্রোটিন রাখতে হবে। মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, দুগ্ধজাত খাবার সবই খেতে পারেন যক্ষ্মার রোগীরা।
এছাড়া ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার, মরশুমি শাকসবজি ও ফলও ডায়েটে রাখতে হবে। অনেক সময়ে চিকিৎসকেরা মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দেন। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি ডায়েটে নজর না দিলে যেকেউ আক্রান্ত হতে পারেন যক্ষ্মায়।
এনএম

