শরীরের কোনো অংশে হঠাৎ করে বাড়তি মাংসপিণ্ড তৈরি হলে প্রথমেই খারাপ কিছুর আশঙ্কা করেন যে কেউ। এটি নিয়ে নানা প্রশ্ন জাগে মনে। এই মাংসপিণ্ড কেন, কী কারণে হলো, এর কারণে কী হতে পারে—এমন প্রশ্নের উত্তর নিয়ে চলে বিচার বিশ্লেষণ।
‘লাম্প’ বা শরীরে অতিরিক্ত মাংসপিণ্ড মানেই যে তা বড় অসুখের পূর্ব লক্ষণ, এমনটা কিন্তু নয়। অনেকসময় সংক্রমণের কারণে লিম্ফ নোড হতে পারে। আবার ত্বকে সিস্টও হয়। আরও নানা কারণে ঘাড়ের কাছে ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে। তাই শুরুতেই এগুলো নিয়ে আতঙ্কিত হওয়া অর্থহীন।
বিজ্ঞাপন

তবে শরীরে এমন কোনো কিছু দেখা দিলে, তা অবহেলা করা উচিত নয়। এমনটাই বলছেন ক্যানসারের চিকিৎসক। শরীরে মাংসল স্ফীতি হতে পারে নানা কারণেই। একেই বলা হয় লাম্প বা টিউমার। টিউমার হলো মানেই যে তা ম্যালিগন্যান্ট, এমনও নয়। লাম্প বা এমন উপবৃদ্ধি নানা কারণে হতে পারে। তা টিউমার না-ও হতে পারে। মাংসল অংশটি বিপদের সঙ্কেতবহ, না কি নয়, তা একমাত্র বলতে পারবেন একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকই।
কখন সতর্ক হবেন?
ঘাড়ের কাছে তৈরি হওয়া মাংসপিণ্ড যদি ২-৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে, যদি তা শক্ত ও ব্যথাহীন হয় তাহলে তা পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষজ্ঞের মতে, মাংসপিণ্ডটি যদি নড়াচড়া না করে, তাহলে তা নিয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিশেষত, রোগীর বয়স যদি ৪০ এর আশপাশে হয়, বংশে ক্যানসারের ইতিহাস থাকে, তিনি যদি মদ্যপায়ী বা ধূমপায়ী হন, তাহলে অবশ্যই বিষয়টি ফেলে রাখা উচিত নয়।

বিজ্ঞাপন
যেসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার
- হঠাৎ করে যদি মাংসপিণ্ড গজিয়ে ওঠে, সঙ্গে জ্বর হতে থাকে
- ক্লান্তি, অসুস্থতা
- আচমকা গলার স্বর বদলে যাওয়া
- ওজন কমতে থাকা
- হঠাৎ করে খুব ঘাম হওয়া
- ২-৩ সপ্তাহ বাদেও ফোলা অংশটি থেকে যাওয়া

কীভাবে রোগ নির্ণয় হতে পারে?
চিকিৎসক প্রথমেই ফোলা অংশটি পরীক্ষা করবেন এবং রোগীর উপসর্গ জানতে চাইবেন। তার কাছে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ঘাড়ের আলট্রাসাউন্ড করার নির্দেশ দিতে পারেন। পরের ধাপ হলো এমআরআই স্ক্যান। এতে আরও ভালোভাবে মাংসপিণ্ডের অবস্থান বোঝা যাবে।
তার পরের ধাপ বায়োপ্সি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যায়, মাংসপিণ্ডটি ম্যালিগন্যান্ট কি না। এই পর্বে চিকিৎসক চাইলে পিইটি সিটি-স্ক্যানের পরামর্শও দিতে পারেন। এতে রোগের বিস্তার সম্পর্কে বিশদ জানা যায়।
এনএম

