শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ঋতু বদলের সময় কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে কেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৮ এএম

শেয়ার করুন:

ঋতু বদলের সময় কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে কেন?

অনেকেই ভাবেন, কিডনিতে পাথর হওয়ার সমস্যা কেবল গরমের সময়ই হয়। বিশেষ করে যখন তীব্র ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়। কিন্তু ইউরোলজিস্টদের মতে, তাপমাত্রা কমে গেলে কিংবা ঋতু বদলালেও এই ঝুঁকি থেকে যায়। বরং ঋতু পরিবর্তনের সময় কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়ে। 

হঠাৎ গরম, আর্দ্রতা, বৃষ্টি বা ঠান্ডার পরিবর্তন আমাদের দৈনন্দিন পানি পানের অভ্যাসে প্রভাব ফেলে। অনেকসময় ব্যস্ততায় পর্যাপ্ত পানি পান করা হয়ে ওঠে না। অনেকে আবার পানির পরিবর্তে চা, কফি কিংবা মিষ্টি পানীয় বেশি গ্রহণ করে। 


বিজ্ঞাপন


kidney_1

দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায় এবং ক্যালসিয়াম, ইউরিক অ্যাসিড ও অক্সালেটের মতো খনিজ একত্রিত হয়ে কিডনির ভেতরে স্ফটিক তৈরি করতে শুরু করে, যা পরবর্তীতে পাথরে পরিণত হয়।

আবহাওয়া বদলালে মানুষের জীবনযাত্রায়ও পরিবর্তন আসে। পানি খাওয়ার পরিমাণ কমে যায়, খাদ্যাভ্যাস বদলায়, শারীরিক পরিশ্রম কমে। এই সব মিলেই বাড়ে ঝুঁকি।

গরমে শরীর বেশি ঘামে, ফলে অজান্তেই শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। আবার ঠান্ডা বা বর্ষায় তৃষ্ণা কম লাগে, তাই অনেকে পানি কম খান। দুই ক্ষেত্রেই ডিহাইড্রেশন হতে পারে। পানি কম খেলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায় এবং খনিজ পদার্থ জমাট বাঁধতে শুরু করে।


বিজ্ঞাপন


kidney-3

ঋতু বদলের সময় কেন বেশি ভয়?

ঋতু বদলের সময় কিছু অভ্যাস ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ঠান্ডায় মানুষ সাধারণত কম পানি পান করে এবং বেশি চা-কফি খায়। ক্যাফিন প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ায়, ফলে শরীর আরও ডিহাইড্রেট হতে পারে। পাশাপাশি বাড়ে ভাজাভুজি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও রেস্তোরাঁর খাবার খাওয়ার প্রবণতা, যা সোডিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম বৃদ্ধি করে। আবার বৃষ্টি বা ঠান্ডার কারণে বাইরে হাঁটা-চলা কমে গেলে বিপাকক্রিয়া ধীর হয় এবং শরীর অতিরিক্ত খনিজ বের করতে কম সক্ষম হয়।

কখন সতর্ক হবেন?

কিডনিতে পাথরের উপসর্গ সবসময় শুরুতেই বোঝা যায় না। তবে তীব্র কোমর বা পেট থেকে ঘুরিয়ে পিঠের দিকে ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা, রক্তমিশ্রিত প্রস্রাব, জ্বর-ঠান্ডা কাঁপুনি বা বার বার ইউরিন ইনফেকশন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

kidney_2

বর্তমানে কিডনিতে পাথরের চিকিৎসা অনেক সহজ ও কম কষ্টকর। ছোট পাথর ওষুধ ও বেশি পানি পান করলে বেরিয়ে যেতে পারে। বড় পাথরের ক্ষেত্রে ইউরেটেরোস্কপি (URS), রেট্রোগ্রেড ইন্ট্রারেনাল সার্জারি (RIRS) বা পারকিউটেনিয়াস নেফ্রোলিথোটমি (PCNL)-এর মতো মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতিতে অপসারণ করা হয়।

তবে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর। সারাবছর নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান, অতিরিক্ত ক্যাফিন ও লবণ কমানো এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা— এই সহজ অভ্যাসগুলোই কিডনিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

এনএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর