রমজান মাস আত্মসংযম, ইবাদতের মাস। এসময় খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন হয়। তবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে অনেকেই নীরবে ভুগছেন একটি অস্বস্তিকর সমস্যায়। প্রস্রাবের সময় জ্বালা, ব্যথা বা ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ। বিশেষ করে নারী, গর্ভবতী মা এবং ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে রমজানে এই সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
কেন রমজানে প্রস্রাবের যন্ত্রণা বাড়ে?
১. পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া
সাহরি ও ইফতারের মাঝের দীর্ঘ সময় পানি না খাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। এতে প্রস্রাব ঘন ও গাঢ় হয়ে যায়, বাড়ে জ্বালাপোড়া।

২. ইউরিন ইনফেকশন (UTI)
কম পানি খেলে ব্যাকটেরিয়া সহজে মূত্রনালিতে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। ফলে প্রস্রাবের সময় জ্বালা, তলপেটে ব্যথা, দুর্গন্ধ— এসব লক্ষণ দেখা দেয়।
৩. অতিরিক্ত চা-কফি ও ভাজাপোড়া খাওয়া
ইফতার ও সাহরিতে অতিরিক্ত চা, কফি, সফট ড্রিংক, ঝাল ও ভাজাপোড়া খাবার খেলে প্রস্রাবের যন্ত্রণা বাড়াতে পারে।

৪. প্রস্রাব চেপে রাখা
তারাবি, অফিস বা বাইরে থাকার কারণে অনেকেই দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখেন, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
৫. গর্ভাবস্থায় বাড়তি চাপ
গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনজনিত পরিবর্তন এবং জরায়ুর চাপের কারণে রমজানে প্রস্রাবের সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন
- প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালা বা ব্যথা
- ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ
- প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হলুদ বা দুর্গন্ধযুক্ত
- তলপেট বা কোমরের নিচে ব্যথা
- জ্বর বা শরীর খারাপ লাগা
এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

রমজানে প্রস্রাবের যন্ত্রণা এড়াতে করণীয়
ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করুন। একসঙ্গে অনেক পানি না খেয়ে অল্প অল্প করে ৮–১০ গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করুন।
প্রস্রাব চেপে রাখবেন না। প্রয়োজন হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রস্রাব করুন।

ঝাল, অতিরিক্ত লবণ, ভাজাপোড়া ও ক্যাফেইন কম খান। ফল, শাকসবজি ও পানি জাতীয় খাবার রাখুন তালিকায়।
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভবতী ও ডায়াবেটিস রোগীরা বাড়তি সতর্ক থাকুন। রমজানে শারীরিক কোনো অস্বস্তি হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

রমজান সুস্থভাবে কাটাতে চাইলে শরীরের ছোট সংকেতগুলোও গুরুত্ব দিতে হবে। প্রস্রাবের যন্ত্রণা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। সময়মতো সচেতন হলেই এ সমস্যা এড়াতে পারবেন সহজেই।
এনএম

