বেশিরভাগ মানুষ ভাবেন, এমন কিছু ওষুধ আছে যেগুলো আক্ষরিক অর্থে অসুস্থ না হলেও খাওয়া যায়। বেশি খেলেও শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না। এমনই একটি ওষুধ ফিশ অয়েল পিল। অনেকে যাকে কড লিভার অয়েল সাপ্লিমেন্ট নামেও চেনেন।
এই ফিশ অয়েলের অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। সর্দি, কাশি, ঠান্ডা লাগা থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা, এমনকী ব্রেন, হার্টের জন্যও ভালো এই সাপ্লিমেন্ট।
বিজ্ঞাপন

চিকিৎসক কী বলছেন?
ইন্টারনাল মেডিসিন চিকিৎসকের মতে, ফিশ অয়েল এমনিতে ভালো। এতে যে দু’ধরনের অ্যাসিড রয়েছে, তা হার্ট ও ব্রেনের কাজকর্ম সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজন। কিন্তু তা খাবার থেকেই পাওয়া সম্ভব। এর জন্য আলাদা করে সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার প্রয়োজন নেই। একান্ত যদি খেতেই হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত। কারণ, ফিশ অয়েল বেশি খেলে ক্ষতি হবে না, এ ধারণা একেবারেই ভিত্তিহীন।
ফিশ অয়েল আসলে কী?
সামুদ্রিক, তৈলাক্ত মাছই ফিশ অয়েলের উৎস। Eicosapentaenoic Acid (EPA) এবং Docosahexaenoic Acid (DHA) রয়েছে এই তেলে। এগুলো আসলে ওমেগা-৩ ফ্যাট, যা হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। প্রদাহজনিত সমস্যা দূরে রাখে।

‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ’-এর তথ্য বলছে, কার্ডিওভাস্কুলার রোগ এবং ট্রাইগ্লিসারাইড নিয়ন্ত্রণের জন্য ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে তা প্রাকৃতিক উপাদান থেকে হিসেবে শরীরে গেলেই ভালো। সাপ্লিমেন্ট কখনওই তার বিকল্প হতে পারে না।
কাদের ফিশ অয়েল সাপ্লিমেন্ট খাওয়া প্রয়োজন?
- যাদের রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি
- যাদের আগে থেকেই হার্টের সমস্যা রয়েছে
- যারা একেবারেই সামুদ্রিক মাছ খেতে পারেন না
কারা ফিশ অয়েল সাপ্লিমেন্ট না খেলেও চলে?
- যারা সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন মাছ খান
- যাদের কোনো কার্ডিওভাস্কুলার রোগ নেই
- যাদের রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা স্বাভাবিক।
তবে অনেকেই মনে করেন, ফিশ অয়েল সাপ্লিমেন্ট খেলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে, ক্লান্তি দূর হয় কিংবা তৎক্ষণাৎ এনার্জি পাওয়া যায়। এই ধারণা কিন্তু আসলেই ভ্রান্ত। এই সাপ্লিমেন্ট খেতে শুরু করা মাত্রই যে শরীরের বিরাট কোনো পরিবর্তন চোখে পড়বে, বিষয়টা তেমনও নয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত ফিশ অয়েল খাওয়ার বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। যাদের নিয়মিত ব্লাড থিনার বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেতে হয়, তাদের রক্তপাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে ফিশ অয়েল পিল। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ফিশ অয়েল খাবেন না।
এনএম


