প্রকৃতিতে বিরাজ করছে ঋতুরাজ বসন্ত। ফাল্গুনের এই মৃদু হাওয়া আর গাছে গাছে নতুন পাতা আমাদের মনে অন্যরকম এক প্রশান্তি এনে দেয়। এবার এই সতেজ বসন্তের মাঝেই চলছে পবিত্র রমজান মাস। একদিকে প্রকৃতির সজীব রূপ, অন্যদিকে রোজার শান্ত ও পবিত্র পরিবেশ। আর কিছুদিন পরেই আসছে খুশির ঈদ।
উৎসব এবং ঋতু পরিবর্তনের এই দারুণ সময়ে আমাদের অন্দরসজ্জায় কিছুটা নতুনত্ব আনা প্রয়োজন। খুব বড় কোনো পরিবর্তন বা অনেক খরচ করার দরকার নেই। খুব সাধারণ ও ছোট কিছু উদ্যোগের মাধ্যমেই আমরা আমাদের ঘরে বসন্তের স্নিগ্ধতা আর রমজানের প্রশান্তি ফুটিয়ে তুলতে পারি।
বিজ্ঞাপন

ঘরের ভেতর সতেজ গাছপালা
প্রকৃতির আসল ছোঁয়া পেতে ঘরের ভেতর ইনডোর প্ল্যান্ট রাখার কোনো বিকল্প নেই। বসন্তের এই সময়ে আপনার বারান্দা, বসার ঘর বা পড়ার টেবিলে কিছু সতেজ গাছ রাখতে পারেন। মানি প্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট, অ্যালোভেরা, স্পাইডার প্ল্যান্ট বা ফার্ন জাতীয় গাছগুলো ঘরের সাধারণ আলো বা বাতাসেই বেশ চমৎকারভাবে বেড়ে ওঠে। এগুলো শুধু ঘরের নান্দনিক সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং ঘরের ভেতরের বাতাসও বিশুদ্ধ রাখে।
রোজার দিনগুলোতে ঘরে একটু সবুজের ছোঁয়া দেখতে পেলে চোখের আরাম হয় এবং মানসিক ক্লান্তি অনেকটাই দূর হয়। সুন্দর মাটির টবে বা কাঁচের বোতলে পানি দিয়ে এই গাছগুলো সাজিয়ে রাখতে পারেন। পরিমিত পানি দেওয়া আর জানালার কাছের আলো বাতাসের ব্যবস্থা করলেই এরা আপনার ঘরকে সজীব করে রাখবে।
বিজ্ঞাপন

চোখের আরাম দেয় এমন স্নিগ্ধ রং
ঘরের ভেতরের পরিবেশ শান্ত ও স্নিগ্ধ রাখতে রঙের ব্যবহার খুব গুরুত্বপূর্ণ। রমজান মাসে এবং বসন্তের এই হালকা গরমের শুরুতে খুব কড়া বা গাঢ় রঙের বদলে হালকা রং বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। বসার ঘরের সোফার কুশন কভার, জানালার ভারী পর্দা, বিছানার চাদর কিংবা ডাইনিং টেবিলের রানারে পরিবর্তন আনতে পারেন।
সাদা, হালকা সবুজ, বাসন্তী, ছাই বা আকাশী রঙের ব্যবহার ঘরের পরিবেশে মুহূর্তেই ফাল্গুনের আমেজ নিয়ে আসবে। এই সময়ের আবহাওয়ার জন্য সুতি বা লিনেন কাপড়ের ব্যবহার সবচেয়ে আরামদায়ক। হালকা রঙের পর্দা ব্যবহার করলে দিনের বেলা ঘরে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস প্রবেশের সুযোগ থাকে, যা ঘরের গুমোট ভাব দূর করে।

প্রশান্তিময় আলো এবং প্রাকৃতিক সুবাস
ইফতারের পর বা সন্ধ্যার সময়টায় ঘরের পরিবেশ শান্ত ও আরামদায়ক করতে আলোর একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। ঘরের মূল বাতির পাশাপাশি খুব হালকা বা ওয়ার্ম আলো ব্যবহার করতে পারেন। বসার ঘরের এক কোণে একটি ফ্লোর ল্যাম্প বা টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে রাখলে দারুণ একটি স্নিগ্ধ পরিবেশ তৈরি হয়, যা ইবাদতের জন্যও বেশ সহায়ক।
পাশাপাশি ঘরের সুবাসের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। বাজারের কৃত্রিম এয়ার ফ্রেশনারের বদলে একটি নান্দনিক মাটির পাত্রে পরিষ্কার পানি নিয়ে তাতে গাঁদা, গোলাপ বা বেলি ফুলের তাজা পাপড়ি ভাসিয়ে রাখতে পারেন। এতে ঘরে বসন্তের একদম প্রাকৃতিক সুবাস ছড়িয়ে পড়বে এবং রোজার সন্ধ্যায় মন শান্ত থাকবে।

ঈদের জন্য আগাম প্রস্তুতি
রমজান মাসের এই সাজানো গোছানো পরিবেশ কিন্তু আমাদের ঈদের প্রস্তুতিরও একটি বড় অংশ। এখন থেকে ঘর কিছুটা গুছিয়ে রাখলে ঈদের আগের দিনগুলোতে বাড়তি কাজের চাপ থাকবে না। ঘরের অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আগেই সরিয়ে ফেলুন।
বসার ঘরটি এমনভাবে গুছিয়ে রাখুন যেন ঈদের দিন সকালে অতিথিরা এলে বেশ খোলামেলা এবং পরিপাটি মনে হয়। ইনডোর প্ল্যান্টগুলোর পাতা একটু পরিষ্কার করে রাখা বা নতুন কভার পরানো কুশনগুলো ঈদের দিন সকালের স্নিগ্ধতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

আমাদের ঘর হলো সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে ফিরে আসার এবং প্রশান্তির জায়গা। রোজার ক্লান্তি শেষে ঘরে ফিরে যদি সতেজ ও শান্ত একটি পরিবেশ পাওয়া যায়, তবে শরীরের সব ক্লান্তি নিমিষেই দূর হয়ে যায়। ফাল্গুনের এই সজীবতা আর রমজানের পবিত্রতা আমাদের সবার অন্দরমহল এবং মনে এক অনাবিল প্রশান্তি নিয়ে আসুক।
এনএম

