কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে বাঁচতে পরিবারের বয়স্করা ইসবগুলের সাহায্য নেন। ওষুধের চেয়ে কোনো অংশে কম নয় এটি। কিন্তু ইসবগুল কেবল কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয় না। এই হোলগ্রেনের আরও অনেক উপকারিতা আছে।
ফাইবার, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রনের মতো বিভিন্ন পুষ্টি রয়েছে ইসবগুলে। তাই শুধু বয়স্করা নয়, কম বয়সিরাও নিয়মিত ইসবগুল খেতে পারেন। ইসবগুল খেলে কী কী উপকারিতা মেলে? চলুন জেনে নেওয়া যাক-
বিজ্ঞাপন

১. গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমায়
পাচনতন্ত্রের জন্য বেশ উপকারি ইসবগুল। গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ইসবগুল খেতে পারেন। বুকজ্বালা ও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যাও দূর করে এটি। বদহজম বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগলে রোজ রাতে ইসবগুল ভেজানো পানি খেতে পারেন।
২. কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায়
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতেও ইসবগুল দারুণ কাজ করে। পাশাপাশি অন্ত্রের স্বাস্থ্যও উন্নত করে এই হোলগ্রেন। এটি শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেয় এবং অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বজায় রাখে। ফলে যেকোনো ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানো যায়।

৩. কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
ইসবগুলের মধ্যে রয়েছে ভরপুর মাত্রায় দ্রবণীয় ফাইবার। এই দ্রবণীয় ফাইবার কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ইসবগুল শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
৪. শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে
রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখে ইসবগুলের দ্রবণীয় ফাইবার। ডায়াবেটিসের রোগীরাও তাই নিশ্চিন্তে খেতে পারেন ইসবগুল। ভারী খাবার খাওয়ার পরে ইসবগুল খেতে পারেন। এটি শর্করা শোষণকে ধীর করে দেয়। সুগার স্পাইক প্রতিরোধ করে।

৫. পেট ভরা রাখে
ইসবগুলে ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি রাখে। তাই এক গ্লাস ইসবগুল ভেজানো পানি খেলে দীর্ঘক্ষণ খিদে পায় না। এর জেরে ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। বরং ইসবগুলের ফাইবার ওজন কমাতে সাহায্য করে।
দিনে কতটুকু ইসবগুল খাওয়া নিরাপদ?
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক দিনে ১-২ টেবিল চামচ ইসবগুল খেতে পারেন। ডিনারের পরে এক গ্লাস পানিতে এক চামচ ইসবগুল ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। তারপরে সেটি খান। এছাড়া ঈষদুষ্ণ দুধেও ইসবগুল মিশিয়ে খেতে পারেন।
এনএম

