ঠোঁট রাঙানোর ক্ষেত্রে কারো পছন্দ লিপগ্লস জাতীয় চকচকে লিপস্টিক, কারো পছন্দ ম্যাট লিপস্টিক। ম্যাট লিপস্টিক দেখতে স্মার্ট আর এলিগ্যান্ট। সমস্যা হলো, এই ধরনের লিপস্টিক ব্যবহার করলে ঠোঁট দ্রুত শুকিয়ে যায়, ফেটে যায়। কিন্তু কেন এমনটা হয়?
ম্যাট লিপস্টিক দিলে ঠোঁট ফাটে কেন?
ম্যাট লিপস্টিক নিজে থেকে ঠোঁট ফাটায় না। বরং এই লিপস্টিকের ভুল ব্যবহার আর যত্নের অভাবই ঠোঁট ফেটে যাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে।

ম্যাট লিপস্টিকের ফর্মুলায় সাধারণত তেল বা ময়েশ্চারাইজার কম থাকে। ফলে লিপস্টিক অনেকক্ষণ ধরে ঠোঁটে বসে থাকে, ছড়িয়ে যায় না। কিন্তু যাঁদের ঠোঁট আগে থেকে শুষ্ক, তাদের ক্ষেত্রে শুষ্কতা বেশি চোখে পড়ে। তাই ঠোঁটের ঠিকমতো যত্ন না নিলে দেখা দিতে পারে ঠোঁট ফাটা, ঠোঁটের চামড়া ওঠার মতো সমস্যা।
করণীয় কী?
লিপ কেয়ার রুটিন:
এই সমস্যা এড়াতে প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো লিপ কেয়ার রুটিন। সপ্তাহে অন্তত দু’দিন হালকা লিপ স্ক্রাব ব্যবহার করুন। বাড়িতে চিনি আর মধু মিশিয়ে স্ক্রাব বানিয়ে নিন সহজেই। এতে মৃত চামড়া উঠে যাবে এবং ঠোঁট মসৃণ হবে। স্ক্রাব করার পর অবশ্যই ভালো লিপ বাম লাগান।

লিপ বাম ব্যবহার:
ম্যাট লিপস্টিক লাগানোর আগে লিপ বাম ব্যবহার করা খুব জরুরি। তবে বাম লাগিয়েই সঙ্গে সঙ্গে লিপস্টিক লাগাবেন না। লিপ বাম লাগিয়ে ৫–১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর টিস্যু দিয়ে অতিরিক্ত বাম মুছে নিয়ে লিপস্টিক লাগান। এতে ঠোঁট হাইড্রেটেড থাকবে, আবার ম্যাট ফিনিশও নষ্ট হবে না।
লিপ প্রাইমার ব্যবহার:
আরেকটি কৌশল হলো লিপ প্রাইমার ব্যবহার করা। অনেকেই এটি এড়িয়ে যান। কিন্তু ঠোঁটের ওপর একটি স্মুথ বেস তৈরি করতে লিপ প্রাইম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি ব্যবহারে লিপস্টিক সমানভাবে ঠোঁটে বসে এবং শুষ্ক ভাব কম লাগে।

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন:
ঠোঁটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভেতর থেকে যত্ন নেওয়াও জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে ঠোঁট দ্রুত শুকিয়ে যায়। অতিরিক্ত চা-কফি বা ধূমপান ঠোঁটের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।
সবশেষে, ঠিক লিপস্টিক বেছে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। এখন অনেক ব্র্যান্ডই হাইড্রেটিং ম্যাট বা ক্রিমি ম্যাট লিপস্টিক বাজারে এনেছে, যেগুলো ঠোঁট শুকনো করে না। তাই খুব ড্রাই ম্যাট লিপস্টিক না বেছে, নিজের ঠোঁটের ধরন বুঝে প্রোডাক্ট নির্বাচন করুন।
এনএম




