শীতকাল এলেই অনেকে সাইনাসের সমস্যায় ভোগেন। সাইনাস হলো চোখের চারপাশে, গালে, কপালে এবং নাকের পেছনে ছড়িয়ে থাকা কিছু ফাঁকা অংশ যার সঙ্গে নাসাপথের সরাসরি সংযোগ রয়েছে। মূলত শ্বাস-প্রশ্বাসে সাহায্য করাই সাইনাসের কাজ। এরা এক দিকে যেমন মিউকাস তৈরি করে নিশ্বাস নেওয়ার জায়গাটিকে আর্দ্র রাখে, তেমনই শ্বাসের মাধ্যমে নাকের ভিতরে প্রবিষ্ট হাওয়াকে পরিশ্রুত করতেও সাহায্য করে।
সমস্যা হয় যখন নানা কারণে এই সাইনাস বা ফাঁকা প্রকোষ্ঠগুলো ফুলে ওঠে। তখনই দেখা দেয় নাক বুজে যাওয়া, মাথা যন্ত্রণা, কপাল-চোখে ব্যথা, ক্লান্তির মতো নানা সমস্যা। শীতকালে যা আরও বেড়ে যায়।
বিজ্ঞাপন

শীতকালে সাইনাসের সমস্যায় ভুগলে কিছু ঘরোয়া উপায় কাজে লাগাতে পারেন। সুস্থ থাকার জন্য কী করবেন চলুন জানা যাক-
১. গরম পানির ভাপ
সাইনাসের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ঘরোয়া উপায়। একটি বড় পাত্রে গরম পানি নিয়ে মাথায় তোয়ালে দিয়ে ঢেকে ১০-১৫ মিনিট ভাপ নিন। এতে নাকের অভ্যন্তরে জমে থাকা মিউকাস পাতলা হয়ে বেরিয়ে আসবে এবং বন্ধ নাক খুলে যাবে।
বিজ্ঞাপন
২. জল নেতি
হালকা গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে নাক পরিষ্কার করার পদ্ধতিকে বলা হয় জল নেতি। এই পদ্ধতিতে একটি নাসারন্ধ্র দিয়ে জল প্রবেশ করিয়ে অন্যটি দিয়ে বার করে দিতে হয়। এর জন্য এক বিশেষ ধরনের পাত্রও পাওয়া যায়, যাকে নেতি পট বা নেতি পাত্র বলা হয়। এই পদ্ধতিতে নাক ও সাইনাসে থাকা ব্যাকটেরিয়া, মিউকাস বা শ্লেষ্মা, ধুলোবালি এবং অ্যালার্জেন বের হয়ে যায়। ফলে কমে মাথা ব্যথা, নাক বুজে যাওয়ার মতো সমস্যা।

৩. শরীর আর্দ্র রাখা
শীতেও পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। সম্ভব হলে হালকা গরম পানি পান করুন। এছাড়া গরম স্যুপ, আদা চা বা তুলসি চা খেতে পারেন। এগুলো সাইনাসের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। উষ্ণ ও তরল খাবার নাক আর সাইনাসে জমা শ্লেষ্মাকে তরল রাখতে সাহায্য করে, ফলে সাইনাসে চাপ কম পড়ে।
৪. গরম সেঁক
একটি পরিষ্কার কাপড় হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে সেটি নাক, গাল ও কপালে চেপে ধরুন। এই পদ্ধতিটি সাইনাসের ব্লকেজ দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী।

৫. হিউমিডিফায়ার
অনেকে শীতে ঘর উষ্ণ রাখতে রুম হিটার ব্যবহার করেন। এতে বাতাস খুব শুষ্ক হয়ে যায়। যা সাইনাসের সমস্যা বাড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে রুম হিটারের সঙ্গে একটি হিউমিডিফায়ারও ব্যবহার করুন এবং অবশ্যই ঘরে যাতে বাতাস চলাচল করে সে দিকে খেয়াল রাখুন।
৬. মসলাদার খাবার
সাইনাসের সমস্যা থাকলে খাবারে আদা, রসুন, গোলমরিচ, পেঁয়াজ ইত্যাদি বেশি করে ব্যবহার করুন। এই ধরনের মসলায় কিছু প্রাকৃতিক এবং জোরালো ধরনের প্রদাহ নাশক উপাদান থাকে, যা সাইনাসের মতো সমস্যা দূর করতে কার্যকরী।

৭. শোয়ার ধরন
কীভাবে ঘুমাচ্ছেন সেটিও সাইনাসের ব্যথায় প্রভাব ফেলে। সাইনাসের সমস্যা থাকলে মাথার নিচে বাড়তি একটি বালিশ রাখুন। সাইনাসের সমস্যায় নাক বুজে গেলে শ্বাস নিতে অসুবিধা হতে পারে। মাথা একটু উঁচুতে থাকলে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে।
ঘরোয়া টোটকায় সমাধান না মিললে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
এনএম

