সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে গোসল করে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস রয়েছে অনেকেরই। রাতে গোসল করার প্রবণতা নতুন কিছু নয়। তবে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ‘ডার্ক শাওয়ার’। গোসলের এই ধারণা খানিকটা নতুন বলেই দাবি মনোবিদদের। কিন্তু কী এই ডার্ক শাওয়ার? কী উপকার মেলে এভাবে গোসলে? চলুন জানা যাক-
ডার্ক শাওয়ার কী?
ডার্ক শাওয়ার বলতে রাতের বেলায় গোসলের কথাই বোঝানো হয়েছে। তবে প্রচলিত নিয়মে নয়। উজ্জ্বল আলো জ্বেলে গোসলের পরিবর্তে নিভু নিভু আলোয় গোসল করার প্রক্রিয়াকে ডার্ক শাওয়ার বলে। পশ্চিমা দেশে এই ধরনের গোসলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে।

ডার্ক শাওয়ার করলে কী হয়?
সুস্থ থাকার কায়দা রোজই খুঁজছে মানুষ। স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিরা ফিটনেস ঠিক রাখতে নতুন নতুন কায়দা কাজে লাগাচ্ছেন। পুরনো পন্থা নতুন মোড়কে ফিরছে কিংবা একেবারে নতুন কিছুর আবিষ্কার হচ্ছে। এখন প্রায় সব বাড়িতেই এসি, নানা বাহারের আলোর ব্যবস্থা আছে। কিন্তু যখন এসব আবিষ্কার হয়নি, তখন মানুষ রাতের ক্লান্তি আর গরমের কষ্ট দূর করে টিমটিমে আলো জ্বালানো বাথরুমে গোসল সারতেন। এখন বলা হচ্ছে, পুরনো এই অভ্যাসই না কি সুনিদ্রার গোপন চাবি।
বিজ্ঞাপন
মনোবিদ ও অধ্যাপিকা আত্রেয়ী ভট্টাচার্যের মতে, ডার্ক শাওয়ার নামকরণ নতুন। কিন্তু কোনো না কোনো রূপে এই ধারণার সঙ্গে সবাই পরিচিত। সারা দিন কাজকর্মের পর রাতে বাড়ি ফিরে সবাই ই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হতে চাই আমরা। অনেকেই সারা দিনের ক্লান্তি এবং ধুলোময়লা দূর করার জন্য গোসলও করেন। এই ধারণা থেকেই ডার্ক শাওয়ারিংয়ের কথা বলা হচ্ছে।

এই অনুশীলনে রাতের বেলা গোসল করতে হবে এবং আলো উজ্জ্বল থাকলে চলবে না। নিভু আলোয় উষ্ণ পানি দিয়ে গা ধুতে হবে। এভাবে গোসল করার ফলে মানসিক ক্লান্তি, চাপ, উদ্বেগ অনেকটাই কমে আসবে। স্বাভাবিক ভাবেই সারা শরীর ও মন প্রশান্ত হবে। ঘুমানোর সময়ে ঠিক যেমন ডিম লাইট জ্বালানোর প্রচলন রয়েছে, এর সঙ্গে সেই সম্পর্ক আছে এই প্রথার।
এমন আলো শরীরে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ বাড়াতে পারে। ফলে সহজেই চোখে ঘুম নেমে আসে। আমাদের মস্তিষ্ক সেই সঙ্কেতগুলোকে বিশ্রামের ইঙ্গিত হিসেবেই ধরে।

উজ্জ্বল আলোর সংস্পর্শে এলে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ কমে যেতে পারে, তাই এই অভ্যাস বিশেষভাবে প্রয়োজন। তবে প্রশ্ন উঠতে পারে, গোসলই কেন? আসলে গোসল বা গা ধোয়া এমনিতেই ক্লান্তি দূর করার জন্য খুব প্রয়োজনীয় এক প্রথা।
পাশাপাশি, নিভু আলোয় জলের আওয়াজ, উষ্ণ পানির ছোঁয়া, সাবানের ঘ্রাণ— সবই আপনার মন শান্ত করবে, ঘুম এনে দেবে চোখের পাতায়।
এনএম

