মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

উদ্বেগ ছড়াচ্ছে নিপাহ ভাইরাস, কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম

শেয়ার করুন:

উদ্বেগ ছড়াচ্ছে নিপাহ ভাইরাস, কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন?

দেশজুড়ে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে নিপাহ ভাইরাস। প্রতিবছর শীতের সময় এলে এই ভাইরাস নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কারণ এসময় এর সংক্রমণ বাড়ে। কাঁচা খেজুরের রস খাওয়ার কারণে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ হয়ে থাকে। চলুন এসম্পর্কে আরও বিস্তারিত জেনে নিই-  

নিপাহ ভাইরাস কী?

এই ভাইরাসের উৎস মূলত বাদুড়। বাদুড়ের আধখাওয়া ফল ভালো ফলের সঙ্গে মিশে থাকলে সেখান থেকেও ছড়াতে পারে এই ভাইরাস। আক্রান্তের ব্যবহৃত বিছানা, পোশাক বা অন্যান্য জিনিসপত্র থেকেও হতে পারে সংক্রমণ। 

nipah_virus_1

সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো উপসর্গ হলেও নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুহার ৫০-৬০ শতাংশ। আক্রান্তের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই তাকে সুস্থ করতে পারে। সেজন্য দ্রুত রোগ ধরা পড়া অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় নিপাহ ভাইরাসকে ‘জুনটিক ভাইরাস’ বলা হয়। অর্থাৎ পশুর শরীর থেকে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে ঢোকে। আক্রান্ত পশুদের দেহের অবশিষ্টাংশ বা মলমূত্র থেকেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।

নিপাহ ভাইরাসের লক্ষণ ভাইরাল জ্বরের চেয়েও ভয়ানক

ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ৩–১৪ দিনের মধ্যে দেখা দেয় উপসর্গ। প্রথমে জ্বর মাথাব্যথার মতো সাধারণ সমস্যা থাকে। মনে হয় সাধারণ ফ্লু। কিন্তু এর সঙ্গে যদি রোগী আচ্ছন্ন হয়ে যান, ভুল বকা শুরু করেন, কাউকে চিনতে না পারেন তাহলে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিতে হবে। 

nipah

ব্রেনে প্রদাহ হলে (এনসেফেলাইটিস) অবস্থা গুরুতর হয়ে ওঠে। রোগের প্রথম দিকে অনেকের শ্বাসকষ্ট হয়। এদের থেকেই রোগ ছড়ায় বেশি। সেজন্য রোগীকে আলাদা করে রাখতে হয়। সতর্ক থাকতে হয় সেবাকর্মীদের। 

চিকিৎসকের মতে, “নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রাথমিক পর্যায়ে বিশেষ কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। জ্বর, মাথা ধরা, পেশীর যন্ত্রণা, বমি বমি ভাবের মতো সাধারণ ‘ভাইরাল ফিভার’-এর লক্ষণ দেখা যায়। কিন্তু নিপাহ ভাইরাস খুব দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ৫ থেকে ৬ দিনের মধ্যে রোগী কোমায় চলে যেতে পারেন। ফুসফুসে সংক্রমণ হলে মৃ্ত্যুও ঘটতে পারে। এই ভাইরাসের কোনো কার্যকর টিকা এখনও আবিষ্কার হয়নি।”

nipah-virus_3

রোগ নির্ণয় করা হয় কীভাবে? 

সাধারণ পরীক্ষায় নিপাহর সংক্রমণ ধরা পড়ে না। বায়ো-সেফটি লেভেল-থ্রি স্তরের কোনো ল্যাবরেটরিতেই নিপাহ ভাইরাসের পরীক্ষা করা সম্ভব। কারণ, এই স্তরের ল্যাবরেটরি না হলে যিনি পরীক্ষা করবেন তারও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আক্রান্তের থুতু-লালা, মূত্রের নমুনা বা সেরিব্রাল স্পাইনাল ফ্লুইড থেকেই নিপাহ ভাইরাস চিহ্নিত করা সম্ভব। 

বিপজ্জনক এই ভাইরাসের মোকাবিলা করতে টিকাই একমাত্র উপায় হতে পারে। জেনোভার প্রতিষেধক কাজ করলে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচবে বলেই আশা করছেন গবেষকরা। 

nipah_5

চিকিৎসকের মতে, “নিপাহ ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে আগে আমাদের সচেতন হতে হবে। বাজার থেকে ফল কেনার সময় ভালো করে দেখে কিনতে হবে। মাঠেঘাটে পড়ে থাকা ফল না খাওয়াই ভালো। মাংস বেশি সময় ধরে রান্না করলে, আগুনের তাপে জীবাণু মরে যায়। ফলে জীবাণু বা ভাইরাস ঘটিত রোগের হাত থেকে সহজেই রেহাই পাওয়া যায়। নিপাহ ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হলে ৭৫ শতাংশ বাঁচার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাই আগে থেকে সতর্ক হওয়া জরুরি।”

রোগ ঠেকাতে কী করবেন? 

সাধারণ ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে যেসব নিয়ম মেনে চলবেন- পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর ভাবে থাকা, নাকে–মুখে হাত দেওয়ার আগে বা খাবার খাওয়ার আগে হাত ভালো করে ধুয়ে নেওয়া ইত্যাদি। আরও যে কাজগুলো করতে হবে- 

87656759

  • খেজুরের কাঁচা রস বা তাড়ি না খাওয়া
  • খেজুরের কাঁচা রসে ডুবিয়ে পিঠা বা অন্য খাবার না খাওয়া 
  • রস ভালোভাবে টগবগিয়ে ফুটিয়ে বা গুড় বানিয়ে খাওয়া 
  • আধা খাওয়া ফল না খাওয়া (কেননা বাদুড়ের আধখাওয়া ফল থেকে নিপাহ ছড়াতে পারে)
  • যেকোনো ফল ধুয়ে খাওয়া
  • সবধরনের ধোয়া-মোছার কাজে সাবান ব্যবহার করা, কেননা সাবান ব্যবহারে নিপাহ ভাইরাস মারা যায়

নিপাহ ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। তাই আক্রান্ত এলাকায় কারো মধ্যে এর লক্ষণসমূহ দেখা দিলে মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করে চিকিৎসা নিতে হবে।

এনএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর