রোববার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

শীতে পুরুষের তুলনায় নারীদের হাত-পা বেশি ঠান্ডা হয় কেন? 

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

শীতে পুরুষের তুলনায় নারীদের হাত-পা বেশি ঠান্ডা হয় কেন? 

শীত এলে বেশিরভাগ নারী একটি সমস্যায় পড়েন। তা হলো হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যাওয়া। অনেকসময় মোজা পরে, গরম ভাপ নিয়েও এই ঠান্ডা ভাব যায় না। কিন্তু আশেপাশের পরিবেশ যখন স্বাভাবিক থাকে তখন নারীরা কেন বেশি ঠান্ডা অনুভব করেন। 

এটি কি কেবল অনুভূতির বিষয়? না কি এর কোনো নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে? চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, এটি কেবল অনুভূতি নয়। এর পেছনে রয়েছে নারীর শারীরিক গঠন, হরমোন, রক্ত সঞ্চালন আর বিপাকগত পার্থক্যের মতো নানা কারণ। 


বিজ্ঞাপন


winter_1

নারীদের হাত-পা বেশি ঠান্ডা হওয়ার কারণ 

শীতে অনেক নারীর হাত-পা বেশি ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে চিকিৎসকরা বলেন, নারীদের শরীর স্বাভাবিকভাবেই জীবনরক্ষাকারী অঙ্গগুলোকে আগে উষ্ণ রাখার জন্য কাজ করে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীর হাত-পা থেকে রক্ত সরিয়ে হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের দিকে পাঠায়। ফলে হাত ও পায়ের ত্বকে রক্তপ্রবাহ কমে যায় এবং সেগুলো দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়। 

হরমোনের ভূমিকা 

এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হরমোনের ভূমিকা। ইস্ট্রোজেন হরমোন রক্তনালির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। শীতের সময় নারীদের রক্তনালি দ্রুত সঙ্কুচিত হয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ভাসোকনস্ট্রিকশন বলা হয়। এর ফলে হাত-পায়ে উষ্ণ রক্ত পৌঁছাতে দেরি হয়। 

winter_2

এই কারণেই নারীদের মধ্যে রেনোডস ফেনোমেনন নামের একটি সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যা হলে ঠান্ডা বা মানসিক চাপে থাকলে আঙুল সাদা বা নীলচে হয়ে যেতে পারে। মাসিক চক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে হরমোনের ওঠানামাও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলে। 

বিপাকহারের পার্থক্য 

বিপাকগত পার্থক্যও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণত পুরুষদের শরীরে পেশির পরিমাণ বেশি থাকে। পেশি বিশ্রাম অবস্থাতেও তাপ উৎপন্ন করে। ফলে পুরুষদের বেসাল মেটাবলিক রেট তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে, নারীদের শরীরে চর্বির পরিমাণ বেশি হলেও সেই চর্বি মূলত অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলিকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে, হাত-পা উষ্ণ রাখতে নয়। এজন্য হাত ও পায়ে ঠান্ডা বেশি লাগে। 

winter_3

রক্তসঞ্চালনের পার্থক্য 

রক্তসঞ্চালনের দিক থেকেও পার্থক্য রয়েছে। নারীদের গড় রক্তচাপ সাধারণত পুরুষের তুলনায় কম হয় এবং প্রান্তিক রক্তপ্রবাহের গতি ধীর। এজন্য হাত ও পায়ে উষ্ণ রক্ত পৌঁছাতে সময় লাগে। পাশাপাশি রক্তাল্পতা বা আয়রনের ঘাটতি নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, যা শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয় এবং ঠান্ডা অনুভূতি আরও বাড়িয়ে তোলে। থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস, অটোইমিউন রোগ কিংবা কিছু ওষুধও এই সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে। 

সচেতন থাকা জরুরি 

তবে সবসময়ই এই ঠান্ডা অনুভূতিকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। ঠান্ডার পাশাপাশি যদি হাত-পায়ে ব্যথা, অবশ ভাব, রং বদলে যাওয়া বা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলতে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। হাইপোথাইরয়ডিজম, রেনোডস ফেনোমেনন, পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ বা অটোইমিউন রোগের মতো সমস্যার লক্ষণও হতে পারে এগুলো। 

winter_4

মূলত শীতে নারীদের হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া শরীরের এক ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা। হরমোন, বিপাক ও রক্তসঞ্চালন একসঙ্গে কাজ করে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে রক্ষা করে, যার খেসারত দিতে হয় হাত ও পাকে। 

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি স্বাভাবিক, তবে উপসর্গ গুরুতর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসা করানোই বুদ্ধিমানের কাজ। চিকিৎসকের মতে, নারীদের শরীর ঠান্ডার সময়ে স্বাভাবিকভাবেই হাত-পা থেকে রক্ত সরিয়ে হৃদযন্ত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে উষ্ণ রাখতে চায়। ফলে প্রান্তিক অংশে রক্তসঞ্চালন কমে গিয়ে হাত ও পা দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়। এছাড়াও ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে নারীদের রক্তনালি ঠান্ডায় দ্রুত সঙ্কুচিত হয়, ফলে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

এনএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর