নারীদের জীবনে সেফটি পিনের বিকল্প নেই। ওড়না আটকে রাখতে, শাড়ির ভাঁজ ঠিক রাখতে, হিজাব পরতে এটি ব্যবহার করা হয়। অনেকসময় কিছু আটকে রাখতে, চটি ছিঁড়ে গেলে, এমনকি পায়ে কাঁটা ফুটে গেলেও সেফটি পিন কাজে আসে। নারীদের ব্যাগে সযত্নে থাকা জিনিস এটি।
খেয়াল করে দেখবেন, সেফটি পিনের একদম শেষ প্রান্তটি গোলাকার হয়। এই গোলাকার অংশটি প্যাঁচানো থাকে। কিন্তু কেন? এটি কি সাধারণ নকশা বা এর পেছনেও রয়েছে কোনো ব্যাখ্যা?
বিজ্ঞাপন

কারণ জানতে হলে চোখ রাখতে হবে ইতিহাসের পাতায়। পোশাক আটকানোর প্রাচীন এক যন্ত্রের নাম টগল পিন। ধারণা করা হয়, প্রাচীন মিশরের প্রথম বৈদেশিক শাসক গোষ্ঠী হিকসসেরা এটি প্যালেস্টাইনে নিয়ে গিয়েছিল। টগল পিনের একপ্রান্তে থাকত একটি ছোট লুপ বা ছিদ্র। লুপের মধ্যে দড়ি বা সুতো ঢুকিয়ে পিনের এক প্রান্ত পোশাকে বাঁধা হতো আর অন্য প্রান্ত আটকে দেওয়া হত পোশাকের আরেক অংশ ভেদ করে।
আরেক ধরনের প্রাচীন যন্ত্র হলো ফিবুলা। যা দেখতে অনেকটা ব্রোচের মতো। গ্রিসের পেলোপনেসাস অঞ্চলে মাইসেনীয়রা খ্রিষ্টপূর্ব ১৪–১৩ শতকের মধ্যে এটি তৈরি করেছিল। ব্যবহারে অনেকটা সেফটি পিনের মতো হওয়ায় ফিবুলাকে সেফটি পিনের পূর্বসূরি বলা হয়। তখন গ্রিক নারী-পুরুষ উভয়েই টিউনিক (ঢিলেঢালা পোশাক বিশেষ) আটকাতে ফিবুলা ব্যবহার করতেন।

বিজ্ঞাপন
আমেরিকার যন্ত্রপ্রকৌশলী ওয়াল্টার হান্ট আধুনিক সেফটি পিন তৈরি করেছিলেন । ১৮৪৯ সালে তার তৈরি করা সেফটিপিনে এমন একটি কীলক (উপরের লুপ) ছিল, যা সুচালো মাথা ঢেকে রাখত এবং পিন খুলে যাওয়ার ঝুঁকি কমাত। হান্টের নকশা করা সেফটি পিনের নিচের দিকে বাঁকানো অংশে ছিল একটি লুপ, যা স্প্রিংয়ের মতো কাজ করে পিনটিকে জায়গায় ধরে রাখে।
ব্যবহারিক দিক থেকেও সেফটি পিনের নিচের ছিদ্রটির ভূমিকা রয়েছে। সেফটি পিন দিয়ে কিছু আটকানোর সময় সেই চাপ আসলে ক্লিপের ওপরে গিয়েই পড়ে। গোল ছিদ্রটিই সেই চাপকে ছড়িয়ে দেয় চারপাশে। ফলে অতিরিক্ত চাপ পড়লেও পিনটি বেঁকে যায় না। স্রষ্টা ওয়াল্টার ঠিক এইভাবেই সেফটি পিন তৈরি করেছিলেন।

এরপর বহু বছর কেটে গেলেও এই যন্ত্রটির নকশা বদলানোর কখনও প্রয়োজন পড়েনি। ওয়াল্টারের বুদ্ধিদীপ্ত নকশার কারণে এখনও সেফটি পিনের এই নকশার কদর কমেনি।
এনএম

