কথা বা কাজের ফাঁকে আঙুল ফোটানোর স্বভাব রয়েছে অনেকেরই। কেউ কেউ একে আঙুল মটকানোও বলে থাকেন। দুই আঙুলের চাপে সৃষ্ট শব্দ শুনে স্বস্তি পান অনেকেই। হাতের জোর যেন ফিরে আসে আঙুল ফোটালে। তবে এই অভ্যাসটি ঘিরে নানাবিধ ধারণা রয়েছে।
কারো কারো মতে এই অভ্যাসে হাতের গাঁটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবার কেউ ভাবেন, দুই আঙুলের ঘর্ষণের কারণে এই শব্দ হয়। বছরের পর বছর ধরে এই অভ্যাস নিয়ে নানা ভুল ধারণা জন্মেছে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বাস্তব চিত্র মোটেও এমন নয়।
বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি ফ্লোরিডার অস্থিরোগ চিকিৎসক ডেভিড আব্বাসি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। আঙুল ফোটানো থেকে উৎপন্ন আওয়াজ কীভাবে তৈরি হয়, তার ফলাফল কী, সেসব বিষয়ে বিস্তারিত বলেছেন সেখানে।
আঙুল ফোটানোর সময় যে শব্দ শোনা যায়, তা আসলে হাড়ের সঙ্গে হাড়ের সংঘর্ষের কারণে তৈরি হয় না। গাঁটগুলোর ভেতরে যে বিশেষ তরল থাকে, তার মধ্যে গ্যাস মিশে থাকে। হঠাৎ করে আঙুল টানলে বা চাপ দিলে সেই তরলের ভেতরের চাপে হেরফের হয়। তখন ছোট ছোট গ্যাসের বুদবুদ তৈরি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে যায়। সেই ভাঙনের সময়ই ওই পরিচিত শব্দটি শোনা যায়। অর্থাৎ শব্দটা তৈরি হয় গাঁটের ভেতরে পরিবর্তনের কারণে, হাড়ের ক্ষয়ের জন্য নয়।

বিজ্ঞাপন
চিকিৎসকের মতে, গবেষণাতেও এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি যে, আঙুল ফোটালে তা থেকে আর্থ্রাইটিস হতে পারে। তবে বার বার এবং জোরে জোরে আঙুল মটকানোর অভ্যাস থেকে অন্য সমস্যা হতে পারে।
অতিরিক্ত টান পড়লে গাঁটের চারপাশের নরম টিস্যু দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এতে সময়ের সঙ্গে হাত দিয়ে জিনিস ধরার শক্তি কিছুটা কমে যেতে পারে। অর্থাৎ অভ্যাস যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন তা সমস্যার কারণ হতে পারে।
এনএম

