বার বার ফিরছে করোনা, ‘হার্ড ইমিউনিটি’ কি তবে মিথ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ জুলাই ২০২২, ০২:৪১ পিএম
বার বার ফিরছে করোনা, ‘হার্ড ইমিউনিটি’ কি তবে মিথ?

ফের করোনার চোখ রাঙানি। সংক্রমণের হার বাড়ছে প্রতিদিন। সবার মনে একটাই প্রশ্ন, আর কতদিন চলবে করোনা বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ? কবে স্বাভাবিক হবে পৃথিবী? করোনার চতুর্থ ঢেউ চলছে এখন। ইতোমধ্যে অফিস আদালতে কমতে শুরু করেছে উপস্থিতির সংখ্যা। 

টিকা দিয়ে, মাস্ক পরেও পার পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ছেন। কেউবা আবার খুঁজে নিচ্ছেন আত্মবিশ্বাস। তাদের মতে, এই রোগ যত দ্রুত সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে তত ‘হার্ড ইমিউনিটি’ সৃষ্টি হবে। তাতেই কমবে ভাইরাসের প্রকোপ। কেউবা এমন ধারণাকে তুলনা করছেন খাল কেটে কুমির ডাকার সঙ্গে। 

corona‘হার্ড ইমিউনিটি’ আসলে কী?
 
যখন কোনো দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ কোনো নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে বা টিকাকরণের মাধ্যমে শরীরে সেই রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে নেন, তখন বাকিরা পরোক্ষভাবে সেই রোগ থেকে নিরাপদ হয়ে যান। যেহেতু আক্রান্ত ব্যক্তি নতুন করে কাউকে সংক্রমিত করতে পারেন না, ফলে সংক্রমণ ছড়ানোর শৃঙ্খলটি ভেঙে যায়। এই প্রক্রিয়াকেই হার্ড ইমিউনিটি বলা হয়। পোলিও, হাম, পক্সের মতো রোগের প্রকোপ এর মাধ্যমেই কমানো সম্ভব হয়েছিল। 

ইতোমধ্যেই দেশের অধিকাংশ মানুষ করোনা দুই ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন। বুস্টারও নিয়েছেন অনেকেই। তবুও কেন হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হচ্ছে না?- এমন প্রশ্ন জাগছে জনসাধারণের মনে। 

coronaকেন এক ব্যক্তি একাধিকবার আক্রান্ত হচ্ছেন? 

চিকিৎসকদের মতে, একই ভাইরাস বার বার কোনো গোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমিত হলে তবেই ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি হয়। কিন্তু কোভিড-১৯ আরএনএ ভাইরাস নিজেকে এমন ভাবে বদলে ফেলছে যে, হার্ড ইমিউনিটি তৈরির পথে তা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে একজন মানুষ একাধিকবার করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। 
ভাইরাসের ক্ষমতা কি আগের মতোই আছে? 

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতাটা এতটাই বেশি যে, তারা বার বার মানবশরীরে আক্রমণ করছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। তাই ইদানীং করোনার খুব বেশি মারাত্মক উপসর্গ দেখা যাচ্ছে না। তাই বলে, ভাইরাসটি যে রূপ পরিবর্তন করে আবার মারাত্মক আকার নেবে না, সেই কথা এখনই বলা যাচ্ছে না। 

coronaতবে কি টিকাকরণে কোনো ফল মিলছে না?

টিকার সুফল অবশ্যই রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, হার্ড ইমিউনিটি যে একেবারেই তৈরি হয়নি, সে ধারণা ভুল। টিকাকরণের নয় থেকে ১০ মাস পরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে যে অ্যান্টিবডিগুলি শরীরে তৈরি হয় তার পরিমাণ ও কার্যকারিতা দুই-ই কমতে শুরু করে। তাছাড়া করোনার যে টিকাগুলি তৈরি করা হয়েছে সেগুলি কিন্তু কোভিডের ‘উহান’ স্ট্রেনের উপর নির্ভর করেই বানানো। কিন্তু বিগত দুই বছরে কোভিড বারবার তার রূপ বদলেছে। সেই অনুযায়ী নতুন টিকা তৈরি হয়নি। 

বর্তমানে বাজারে যে টিকা রয়েছে তা নিঃসন্দেহে করোনার বিরুদ্ধে কাজ করছে। তবে ভ্যাকসিন আপডেট করা হলে তা আরও ভাল কাজ করত। এই দুই কারণেই করোনার বিরুদ্ধে হার্ড ইমিউনিটি তৈরিতে বেশ বাধা পড়েছে।

সবমিলিয়ে বলা যায়, এখনও করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। নিজেদের সচেতনতাই পারে রোগটির সংক্রমণ কমাতে। 

এনএম