যমুনার সঙ্গে পদ্মা সেতুর পার্থক্য জানুন

প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২২, ০২:০৩ পিএম
যমুনার সঙ্গে পদ্মা সেতুর পার্থক্য জানুন

সময়ের কাটা বলছে আর মাত্র দিন তিনেকের অপেক্ষা। এরপরই অগণিত মানুষের স্বপ্ন সত্যি হবে। পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে তৈরি করা পদ্মা সেতুকে নিয়ে গর্ব করবে বাঙালি। দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং একমাত্র দ্বিতল সেতু হতে যাচ্ছে এটি। এখনও পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের দিক থেকে প্রথম স্থানে আছে বঙ্গবন্ধু সেতু। যা যমুনা সেতু হিসবেও পরিচিত। 

সম্প্রতি পদ্মা সেতুর টোল নির্ধারণ করা হয়। তুলনা করলে দেখা যায় যমুনা সেতুর প্রায় দ্বিগুণ টোল নির্ধারণ করা হয়েছে এই সেতুর জন্য। টোল বেশি র্নিধারণের কারণে পদ্মা সেতুর সমালোচনা করেছেন অনেকে। চলে আসে দুই সেতুর তুলনার বিষয়টিও। তবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় দুটি সেতুর মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য জানুন। 

jamuna
যমুনা সেতু 

দৈর্ঘ্য

১৯৯৮ সালে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় বঙ্গবন্ধু সেতু বা যমুনা সেতু। এর মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার। সঙ্গে রয়েছে মূল সেতুতে উঠতে দুই পাশে ১২৮ মিটার ভায়াডাক্ট। সব মিলিয়ে এই সেতুর দৈর্ঘ্য পাঁচ কিলোমিটারের কম।

অন্যদিকে, পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য এর চেয়ে অনেক বেশি। এর মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। সঙ্গে রয়েছে দুই প্রান্তের ৩ দশমিক ১৪৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ভায়াডাক্ট। সেই হিসাবে পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৯ দশমিক ২৯৮ কিলোমিটার।

padma
পদ্মা সেতু 

নির্মাণ ব্যয় 

পদ্মা ও যমুনা সেতুর নির্মাণ ব্যয়েও রয়েছে পার্থক্য। যমুনা সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছিল ৯৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। ডলারের সঙ্গে টাকার সে সময়ের বিনিময় হারে এই ব্যয় ছিল ৪ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। বর্তমান বিনিময় হারের সঙ্গে তুলনা করলে এই খরচ দাঁড়ায় ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।

অন্যদিকে, পদ্মা সেতু নির্মাণে সর্বশেষ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। 

jamuna
যমুনা সেতু 

উপাদান

যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতু বা যমুনা সেতু তৈরি করা হয়েছে কংক্রিট দিয়ে। অন্যদিকে, পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে স্টিল স্ট্রাকচার। এছাড়াও ব্যবহার করা হয়েছে পাথর ও কংক্রিট। 

গঠন 

দুটি সেতুর গঠনেও রয়েছে পার্থক্য। যমুনা সেতু একতল বিশিষ্ট। এতে সড়ক পথের পাশ দিয়ে রাখা হয়েছে রেল পথের ব্যবস্থা। আর পদ্মা সেতু একটি দ্বিতল বিশিষ্ট সেতু। এতে ওপরে রয়েছে চার লেনের সড়ক পথ। নিচে রয়েছে রেল পথ। 

padma
পদ্মা সেতু

আপাতদৃষ্টিতে যমুনার তুলনায় পদ্মা সেতুতে টোলের পরিমাণ বেশি মনে হলেও বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় দুই সেতুর টোলের পার্থক্য খুবই সামান্য। কিছু ক্ষেত্রে যমুনা সেতুর চেয়ে পদ্মার টোলের পরিমাণ বরং কম হতে যাচ্ছে। 

পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে একটি মোটরসাইকেলকে ১০০ টাকা টোল দিতে হবে। এই সেতুর চেয়ে দৈর্ঘ্যে প্রায় অর্ধেক যমুনা সেতু পাড়ি দিতে মোটরসাইকেলকে দিতে হয় ৫০ টাকা। দৈর্ঘ্যের হিসাবে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেলের টোল দাঁড়াচ্ছে প্রতি কিলোমিটারে ১০ টাকা ৭৫ পয়সা। বঙ্গবন্ধু সেতুর ক্ষেত্রে যার পরিমাণ ১০ টাকা ১৫ পয়সা। অর্থাৎ, পদ্মা পাড়ি দিতে যমুনার তুলনায় মোটরসাইকেলকে প্রতি কিলোমিটারে ৬০ পয়সা বেশি দিতে হবে। 

jamuna
যমুনা সেতু

আবার পদ্মা সেতু পার হতে মাইক্রোবাসকে গুণতে হবে ১ হাজার ৩০০ টাকা। অর্ধেক দৈর্ঘ্যের যমুনা সেতুতে খরচ লাগে ৭৫০ টাকা। হিসাব অনুযায়ী পদ্মা সেতুতে মাইক্রোবাসে প্রতি কিলোমিটারে টোল আসে ১৩৯ টাকা ৮২ পয়সা। যমুনা সেতুতে যার পরিমাণ ১৫২ টাকা ১৯ পয়সা। অর্থাৎ, মাইক্রোবাসে পদ্মা সেতুতে কিলোমিটার হিসাবে যমুনার তুলনায় খরচ কমবে ১২ টাকা ৩৭ পয়সা।

এসব ছাড়াও যমুনার তুলনায় পদ্মাতে সেতু নির্মাণ করার বিষয়টিই ছিল চ্যালেঞ্জের। গভীরতম পাইলিং, উন্নতমানের উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমে প্রমত্তা পদ্মার বুকে নির্মাণ করা হয়েছে পদ্মা সেতু। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে যা স্বপ্নের সেতু। এই সেতুতে যান চলাচলের মাধ্যমে কমবে যাত্রার সময়, উন্নতি হবে জীবনযাত্রার, কমবে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। এমনটাই আশা করছেন তারা। ফেরিতে ভাড়া বাণিজ্য, নৈরাজ্য থেকেও মুক্তি পাবেন বলে মনে করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ জনগণ।

এনএম/এজেড