সহকর্মী কি বন্ধু হতে পারেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ জুন ২০২২, ১০:৫৬ এএম
সহকর্মী কি বন্ধু হতে পারেন?

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ চুকিয়ে চাকরিজীবনে পদার্পণ করেন অনেকে। দিনের একটা বড় সময় কাটান কর্মক্ষেত্রে। বন্ধুদের বদলে থাকা হয় সহকর্মীদের সঙ্গে। প্রাতিষ্ঠানিক কাজ ভাগাভাগি করা থেকে শুরু করে নিজের কথা বলার সঙ্গী হন তারা। কিন্তু সহকর্মীরা কি আদৌ বন্ধু হতে পারেন? তাদের সঙ্গে কী ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক করা উচিত? নাকি যতটা পারা যায় এড়িয়ে চলতে হয়? মনে জাগা প্রশ্নগুলোর উত্তর জানুন। 

সম্পর্ক সৃষ্টি হোক সূচনা থেকেই 

কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের পর সবার মাথায়ই চিন্তা থাকে কীভাবে সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করবেন। কী করলে সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে। যেহেতু কর্মক্ষেত্রে দলীয় বা টিম ওয়ার্ক করতে হয় তাই সহকর্মীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা জরুরি। প্রথম দিন থেকেই সম্পর্ক তৈরির কাজটি করুন। আপনার ব্যবহার, অভিপ্রায় যেন বন্ধুত্বপূর্ণ হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। 

collegueঅন্যরা এসে আপনার সঙ্গে কথা বলবে এমন ভাবনা নিয়ে বসে থাকবেন না। বরং নিজেই সবার সঙ্গে পরিচিত হয়ে নিন। নাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রামের বাড়ি এমন কিছু তথ্য দিতে পারেন। তবে প্রথম দিনই সহকর্মীর সঙ্গে গালগপ্প শুরু করে দেবেন না। এমন ব্যক্তিদের অন্যরা এড়িয়ে চলতে চায়। 

চিনতে সময় নিন 

কাউকেই একদিনে চেনা সম্ভব নয়। আবার জানা বা চেনার কোনো শেষও নেই। মানুষ পরিবর্তনশীল। আজকের পরিস্থিতিতে সহকর্মী যে ব্যবহার করছেন, আগামী দিন অন্য পরিস্থিতিতে তা নাও করতে পারেন। তাই সহকর্মীদের চিনতে সময় নিন। 

collegueসম্মান প্রদর্শন করুন 

একটি প্রতিষ্ঠানে অনেক মানসিকতার কর্মীই কাজ করেই। সবার সঙ্গে আপনার ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠবে এমনটা নয়। তবে সব সহকর্মীকেই যোগ্য সম্মান দিন। মনে রাখবেন, অন্যকে সম্মান প্রদর্শন করলে, আপনিও সম্মান পাবেন। সিনিয়র বা ঊর্ধ্বতন সহকর্মীদের কথা মেনে চলতে চেষ্টা করুন। 

মিলেমিশে কাজ করুন

সহকর্মীদের সঙ্গে যত আন্তরিক হবেন, দলগত কাজ করা আপনার জন্য তত সহজ হবে। অনেকে নিজের মতো থাকতে ভালোবাসেন। কানে হেডফোন গুঁজে কাজ করেন। অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা করে রাখেন। এমন ব্যক্তিকে সহকর্মী হিসেবে কেউ পছন্দ করেন না। মিলেমিশে কাজ করুন। প্রয়োজনে অন্যদের কাজের বিষয়ে সাহায্য করুন। নিজে কিছু না বুঝলে অন্য সহকর্মীর সাহায্য নিন।    

collegueওভার শেয়ারিং কি না করলেই নয়? 

বন্ধুত্বপূর্ণ আর বন্ধু- শব্দ দুইটির মধ্যে কিন্তু তফাৎ রয়েছে। কাজের সুবিধা অসুবিধা আপনি সহকর্মীর সঙ্গে শেয়ার করতেই পারেন। কিন্তু খুব ব্যক্তিগত কিছু কি তার সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন আছে? সহকর্মী বন্ধুত্বপূর্ণ হলেও ব্যক্তিগত কথা কম বলুন। নিজেকে তার ওপর চাপিয়ে দিতে যাবেন না।         

সম্পর্ক হোক ইতিবাচক 

একসঙ্গে কাজ করতে গেলে কথা কাটাকাটি, মান-অভিমান হতেই পারে। কিন্তু সেই রেশ মনে আঁকড়ে রাখলে মুশকিল। পেশাদার দায়িত্বে এসব আবেগ আড়ালে রাখুন। সহকর্মীর সঙ্গে ইতিবাচক অ্যাটিটিউড বজায় রাখুন। এতে সবার সঙ্গে যেমন সম্পর্ক ভালো থাকবে, তেমনি আপনি হয়ে উঠবেন দক্ষ কর্মী। 

collegueকিছুটা আড্ডাও জরুরি 

কাজের সূত্রে পরিচয় হলেও কিছু সহকর্মী আপন হয়ে যান। তার সঙ্গে হৃদ্যতা গড়ে উঠে। সময় সুযোগ মেলাতে পারলে সহকর্মীর সঙ্গে মাঝেমধ্যে আড্ডা দিন। তবে অফিসের কাজ ফেলে গল্প করা যাবে না। অফিস শেষে চা-কফির টেবিলে আড্ডা জমাতে পারেন। কিংবা ছুটির দিনে তাকে নিজের বাড়িতে নিমন্ত্রণও করতে পারেন। সহকর্মীর সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে অন্য সহকর্মীর নিন্দা করবেন না যেন। এটি খুব খারাপ স্বভাব। 

কাজের গুরুত্ব যেন না হারায়

সহকর্মীর সঙ্গে পরিচয় হয় কর্মক্ষেত্রের সূত্রে। আর একটি কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কর্ম বা কাজ। সহকর্মীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে যেন কাজের পরিবেশ নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। নিজের কাজকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিন।

collegueঅফিসের নিয়ম মানুন 

প্রতিটি কর্মক্ষেত্রেরই নিজের মতো কিছু অলিখিত নিয়ম থাকে। কাজ করতে গেলে সেগুলো জানতে পারবেন। অফিসের ডেকোরাম বা অলিখিত নিয়মগুলো মেনে চলুন। এতে সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ হয়ে উঠবে। 
সহকর্মীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ থাকা উচিত। অপরপক্ষের সঙ্গে ভালো বোঝাবুঝি হলে তা বন্ধুত্বেও গড়াতে পারে। তবে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। সময় নিন, জানুন। এরপর বন্ধু বানান। 

এনএম