আপনার সন্তান কি মুখে মুখে তর্ক করে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২২, ০২:১৮ পিএম
আপনার সন্তান কি মুখে মুখে তর্ক করে?

প্রায়ই অভিভাবকরা অভিযোগ করেন তাদের সন্তান কথা শোনে না। মুখে মুখে তর্ক করে। তারা বলছেন, এখনকার শিশুদের মানসিকতা বোঝা কঠিন। সারাক্ষণ স্মার্টফোনে বুঁদ হয়ে থাকে। 
 
তর্ক করা এবং ঝগড়া করা মানব চরিত্রের অন্যতম দিক। অনেক সময় ছোট ছোট বাচ্চাদের মধ্যেও এই স্বভাব দেখা যায়। তাদের যেটা বলা হয়, সেটাই না করার জন্য হাজারটা যুক্তি সাজিয়ে ফেলে অনেক বাচ্চাই। তর্ক করা খারাপ নয়, নিজের কথা যুক্তি দিয়ে সাজিয়ে বলা অবশ্যই গুণের মধ্যে পড়ে। কিন্তু যদি এটাই সব সময় কোনও বাচ্চা করতে থাকে, তা হলে সেটা গুণ বলা যেতে পারে না।

childবাচ্চারা বিশেষ করে বড় হয়ে ওঠার বয়সে বাবা-মায়ের কথা না শোনা, তাঁদের মুখে মুখে তর্ক অভ্যাস তৈরি করে ফেলে অনেক সময়। কীভাবে তাদের এই অভ্যাসকে পাল্টে ঠিক পথে চালিত করবেন তা জেনে নিন এখানে। বাচ্চার তর্ক করার স্বভাবকে ভালো পথে চালিত করতে পারলে তা তাদের ভবিষ্যতের জন্য উপকারী প্রমাণিত হবে।

​সন্তান কেন তর্ক করে?

সন্তান তর্ক করছে বলে প্রথমেই তাকে বকাবকি করবেন না। আগের বোঝার চেষ্টা করুন যে সে কেন তর্ক করছে। অনেক বাচ্চারই কিন্তু নিজস্ব ব্যক্তিত্ব থাকে, নিজস্ব শক্তিশালী মতামত থাকে। এই সব বাচ্চারা নিজের মতামতকে অন্যের থেকে বেশি প্রাধান্য দেয়। সেই কারণে তাদের উপর অন্য কেউ নিজের মত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেই তর্ক শুরু করে এই সব বাচ্চারা। আবার কোনও কোনও বাচ্চা সব বিষয়েই কথা বলতে পছন্দ করে। সব ব্যাপারে কথা বলতে গিয়েই এই বাচ্চারা তর্কে জড়িয়ে পড়ে অনেক সময়। আবার অনেক সময় বড়দের তর্ক করতে দেখলেও তাদের দেখেই অনেক বাচ্চার মধ্য়ে তর্ক করার অভ্যেস তৈরি হয়ে যায়।

childবাচ্চার সঙ্গে তর্ক টানবেন না

তর্ক এড়ানোর সবথেকে কার্যকরী উপায় হল তর্ককে টেনে নিয়ে না যাওয়া। অনেক সময় এমন হয় যে দুজন মানুষের মত কখনোই মেলে না। সেক্ষেত্রে যত তর্ক বাড়াবেন, ততই বাড়বে। মনে রাখবেন যে তর্ক করতে ভালোবাসে, তাকে তর্ক করার সুযোগ না দেওয়াই হল তর্ক এড়ানোর সহজ উপায়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও এই নিয়মটা খাটে। যখনই দেখবেন কোনও বিষয়ে আপনার সন্তান তর্ক শুরু করছে, তখনই আলোচনার মোড় অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিন। তর্ক করতে কখনোই বাচ্চাকে উত্‍সাহ দেবেন না।

​বাচ্চা তর্ক করলে রাগারাগি নয়

আপনার সন্তান আপনার কথার উপর তর্ক করছে, এই কারণে তার উপর রাগারাগি করবেন না। 'তুমি ভুল বলছ', এই ধরনের কথা কখনোই সন্তানের উদ্দেশ্যে ব্য়বহার করবেন না। হতে পারে আপনার রাগ দেখে আপনার বাচ্চা ভয় পেয়ে তর্ক বন্ধ করবে এমনটাই মনে করছেন আপনি। কিন্তু উল্টোটাও হতে পারে। আপনার রাগ হয়তো আপনার সন্তানের তর্ক করার মানসিকতা আরও বাড়িয়ে দিল। তাই সন্তান মুখে মুখে তর্ক করলেও আপনাকে মাথা ঠাণ্ডা রাখতেই হবে।

childখারাপ তকমা বসিয়ে দেবেন না

মনে রাখবেন, তর্ক করা মানেই তা খারাপ নয়। তাই তর্ক করার খারাপ কাজ, এমন কোনও তকমা বসিয়ে দেবেন না। বড়রা যা বলবে, বিনাবাক্যব্যয়ে সেটা মেনে নিতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। বরং বাচ্চাকে তার মতামত প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়াটাও দরকার। বাচ্চার প্রশ্ন করার প্রবণতা এভাবে জোর করে বন্ধ করে দেওয়ার মানে তার ভেতরের কৌতুহল আর অনুসন্ধিত্‍সাকে আপনি হত্যা করছেন। তাই তর্ক করার স্বভাবকে চেষ্টা করুন ভালো দিকে কাজে লাগাতে।

​নিজের ভুল স্বীকার করে নিন

সব সময় যে আপনার সন্তান ভুল আর আপনি ঠিক, তা কিন্তু নয়। তর্ক করার সময় মনে রাখুন, হতে পারে আপনার কথাই ভুল, আপনার সন্তানই ঠিক বলছে। সেক্ষেত্রে নিজের ভুল সন্তানের সামনে স্বীকার করে নিতে লজ্জা পাবেন না। সন্তানের সামনে নিজের ভুল স্বীকার করে নেওয়ার মধ্যে কোনও ক্ষতি নেই। এর ফলে সন্তানের উপর আপনার কর্তৃত্ব মোটেও হ্রাস পাবেন না। বরং নিজের ভুল স্বীকার করে নিলে আপনার প্রতি সন্তানের শ্রদ্ধা আরও বাড়বে।

এজেড