হিট স্ট্রোকের লক্ষণ জানুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ মে ২০২২, ০২:৫২ পিএম
হিট স্ট্রোকের লক্ষণ জানুন

বহুদিন বৃষ্টির দেখা নেই। গরমে ত্রাহিত্রাহি অবস্থা। লু হাওয়া বইছে যেন! এই সময় হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হন অনেকেই। অনেকে হিট স্ট্রোকের লক্ষণ বুঝে উঠতে পারেন না। ক্লান্তিকে হিট স্ট্রোকের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেন। 

হিট স্ট্রোক আসলে কী?

এই প্রচন্ড গরমে হিট স্ট্রোক খুব স্বাভাবিক বিষয়। বয়স না মেনেই এই ধাক্কা যে কেউ খেতেই পারেন। ঠিক তেমনই, নার্ভাস সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। যার থেকে শরীরের তাপমাত্রা ৪০°এর বেশি হয়ে যায়। খিঁচুনি, এমনকি মানুষ কোমায় পর্যন্ত চলে যেতে পারেন।

heat strokeএইসময় একটু শীতল স্থানে বসানো খুব ভাল। দেহের তাপমাত্রা ঠান্ডা পানি দিয়ে আয়ত্বে আনতে হয়। অল্প অল্প পানি খাওয়ানো উচিত। হাতের কাছে সাইট্রাস ফল থাকলে সেটিও খাওয়ানো দরকার।

হিট স্ট্রোকের লক্ষণ

তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেহে নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে হিট স্ট্রোকের আগে অপেক্ষাকৃত কম মারাত্মক হিট ক্র্যাম্প অথবা হিট এক্সহসশন হতে পারে। হিট ক্র্যাম্পে শরীরের মাংসপেশিতে ব্যথা হয়, শরীর দুর্বল লাগে এবং প্রচণ্ড পিপাসা পায়। এর পরের ধাপে হিট এক্সহসশনে দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস, মাথাব্যথা, ঝিমঝিম করা, বমিভাব, অসংলগ্ন আচরণ ইত্যাদি দেখা দেয়। এই দুই ক্ষেত্রেই শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকে এবং শরীর অত্যন্ত ঘামতে থাকে। এ অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হিট স্ট্রোক হতে পারে।

heat strokeএক নজরে হিট স্ট্রোকের লক্ষণ

* শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়।
* ঘাম বন্ধ হয়ে যায়।
* ত্বক শুষ্ক ও লালচে হয়ে যায়।
* নিশ্বাস দ্রুত হয়।
* নাড়ির স্পন্দন ক্ষীণ ও দ্রুত হয়।
* রক্তচাপ কমে যায়।
* খিঁচুনি, মাথা ঝিমঝিম করা, অস্বাভাবিক আচরণ, হ্যালুসিনেশন, অসংলগ্নতা ইত্যাদি।
* প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়।
* রোগী শকেও চলে যায়। এমনকি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়

গরমের দিনে কিছু সতর্কতা মেনে চললে হিট স্ট্রোকের বিপদ থেকে বেঁচে থাকা যায়-

* হালকা, ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। কাপড় সাদা বা হালকা রঙের হতে হবে। সুতি কাপড় হলে ভালো।
* যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকুন।
* বাইরে যেতে হলে টুপি, ক্যাপ বা ছাতা ব্যবহার করুন।
* বাইরে যাঁরা কাজকর্ম করেন, তারা ছাতা বা মাথা ঢাকার জন্য কাপড়জাতীয় কিছু ব্যবহার করতে পারেন।
* প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল পান করুন। মনে রাখবেন, গরমে ঘামের সঙ্গে পানি ও লবণ দুইই বের হয়ে যায়। তাই পানির সঙ্গে সঙ্গে লবণযুক্ত পানীয় যেমন-খাবার স্যালাইন, ফলের রস, শরবত ইত্যাদিও পান করতে হবে।
* চা বা কফি যথাসম্ভব কম পান করা উচিত।

এজেড