বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৩, ০৮:৩৮ এএম

শেয়ার করুন:

কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়

কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন সবার জন্য সমান। একজন আইনজীবীর দায়িত্ব ও কর্তব্য আরও বেশি। বার কাউন্সিলের ক্যাননস অনুযায়ী একজন আইনজীবীর ৪টি দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে। তার মধ্যে সমাজের সাধারণ মানুষের প্রতি দায়িত্বটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

একজন আইনজীবী কখনোই বিনা অপরাধে কাউকে মারধর করতে পারেন না। এটি ফৌজদারী অপরাধ। কিন্তু যশোরের আইনজীবী আরতি রাণী কেন একজন রিকশাওয়ালাকে প্রকাশ্যে মারধর করলেন? কেন অপমান-অপদস্থ করলেন? এটি কি কোনো স্বাভাবিক ঘটনা, নাকি অন্য কিছু? এটি নিয়ে চলছে সমালোচনার ঝড়। তার সহকর্মীরাও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্ববায়ন জানিয়েছেন। যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য আরতি রাণী রিকশাচালককে প্রকাশ্যে মারধর সেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে দেশব্যাপী।

আইনজীবীরা বলছেন, এটি অন্যায় হয়েছে। রিকশাচালক অন্যায় করলে তার বিচার আছে, কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। তার সনদ বাতিলেরও দাবি তুলেছেন কেউ কেউ।

জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের ফৌজদারী আইন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মাদ শিশির মনির বলেন, একজন আইনজীবী হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা উচিত ছিল। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। রিকশাচালক অপরাধ করে থাকলে সেজন্য আইন আছে। সে অনুযায়ী বিচার হবে। কিন্তু তার গায়ে হাত দেওয়া অন্যায় হয়েছে। বেআইনি হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আরেক সুপরিচিত আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। আইনজীবীদের যেই হাত ও মুখ নিপীড়িত মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর কথা, সেই হাত ও মুখ নিরীহ মানুষকে নির্যাতন করে কিভাবে? একজন আইনজীবী হিসেবে আমি লজ্জিত। উক্ত আইনজীবীকে শোকজ করায় ধন্যবাদ জানাচ্ছি আইনজীবী সমিতিকে।

গত ৭ মে সকালে যশোর আদালতের সামনে শেখ মুজিবুর রহমান সড়কে (মুজিব সড়ক) আইনজীবী আরতি রাণী ঘোষ এক রিকশাচালককে মারধর করেন। মারধরের ভিডিও ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।

৬ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, কালো গাউন পরা আরতি রাণী ঘোষ রিকশাচালকের শার্টের কলার ধরে রিকশা থেকে নামিয়ে একের পর এক চড় মারছেন। মারতে মারতে তাকে রিকশার চাবি নিয়ে পৌরসভায় যেতে বলেন। রিকশাচালককে পৌরসভায় নিয়ে তার লাইসেন্স বাতিল করার হুমকিও দিতে দেখা যায়। এ সময় রিকশাচালক হাত উঁচু করে মাফ চান। এতেও ওই নারী আইনজীবীর মন গলতে দেখা যায়নি। বরং তিনি আরও চড়াও হয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকেন। এসময় পথচারীরা তাকে থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

ভিডিওতে এক পথচারীকে বলতে শোনা যায়, ওই নারী আইনজীবী রিকশাচালককে জুতাপেটাও করেছেন। তারা এ ঘটনার প্রতিবাদ করলেও ওই আইনজীবী রিকশাচালককে চড়-থাপ্পড় মেরেই যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে এক নারী এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করলে ক্ষান্ত হন তিনি। এসময় ওই রিকশাচালক রিকশা নিয়ে চলে যান।

এ ঘটনায় আরতি রাণী ঘোষকে কারণদর্শাতে বলা (শোকজ) হয়। মঙ্গলবার (৯ মে) সকালে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু মোর্তজা সই করা নোটিশটি পাঠানো হয় আরতি রাণীর বাড়িতে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মারধরের বিষয়ে আরতি রাণী ঘোষ দাবি করেন, তিনি আদালত থেকে ফেরার পথে সড়ক অতিক্রম করতে গেলে ওই রিকশাচালক তাকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি পড়ে গিয়ে আহত হন। এ কারণে মারধর করেছেন। উত্তেজিত হয়ে এ কাজ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইসহাক সাংবাদিকদের বলেন, আরতি রাণী ঘোষ যে ঘটনা ঘটিয়েছেন তা আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্রের পরিপন্থি। এ কারণে তাকে শোকজ করা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আইনজীবী আরতি রাণী ঘোষ শহরের আম্বিকা বসু লেনের মৃত নীলরতন ঘোষের স্ত্রী।

এআইএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর