শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণে যেসব নির্দেশনা ছিল

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২২, ১০:৩৪ এএম

শেয়ার করুন:

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণে যেসব নির্দেশনা ছিল

বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করতে একটি রিট করেছিলেন সাবেক জেলা জজ মাসদার হোসেন। মামলাজট কমানোর পাশাপাশি স্বাধীন বিচার বিভাগ চাওয়াই ছিল এ রিটের মূল চাওয়া। ১৯৯৪ সালে রিটটি দায়ের করেন তিনি। পরবর্তীতে চূড়ান্ত শুনানি করে ১৯৯৯ সালে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা করা হয়। চূড়ান্ত সেই রায় বাস্তবায়নে ১২ দফা নির্দেশনা দেয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এর ফলে ২০০৭ সালে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা করা হয়। কি ছিল সেই ১২ নির্দেশনা?

এক. সংবিধানের ১৫২ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় সব বিভাগের কাজ সার্ভিস অব রিপাবলিকের ভেতরে পড়বে। তবে বিচার বিভাগের কাজ ও অবকাঠামোর সঙ্গে প্রজাতন্ত্রের সিভিল সার্ভিসের অনেক ভিন্নতা রয়েছে। বিচার বিভাগকে অন্যান্য সিভিল সার্ভিসের সঙ্গে এক করা যাবে না।


বিজ্ঞাপন


দুই. বিচারিক (জুডিশিয়াল) ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করতে হবে এবং নির্বাহী বিভাগের ম্যাজিস্ট্রেটরা বিচারিক কাজ করতে পারবেন না। সংবিধানের ১১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের পদ সৃষ্টি, নিয়োগ পদ্ধতি, নিয়োগ বদলিসহ অন্যান্য কাজের বিধিমালা প্রণয়ন করতে পারবেন।

তিন. সিভিল সার্ভিস অর্ডার ১৯৮০ অনুযায়ী, সব ম্যাজিস্ট্রেটকে পিএসসির অধীনে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে একসঙ্গে নিয়োগ দেওয়া হয়। একসঙ্গে নিয়োগ দেওয়া সংবিধান পরিপন্থী।

চার. এই রায় পাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন বিধিমালা এবং কমিশন গঠন করতে হবে। এই কমিশনে সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে। এই কমিশনে নারী ও পুরুষ বলে কোনো বৈষম্য থাকবে না।

পাঁচ. সংবিধানের ১১৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি জুডিশিয়ারি সবার চাকরির বিধিমালা (নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, পদোন্নতি ও ছুটিসহ অন্যান্য) প্রণয়ন করবেন।


বিজ্ঞাপন


ছয়. সংবিধানের ১১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন বিধিমালা প্রণয়ন করবেন।

সাত. সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের থাকবে।

আট. বিচার বিভাগ জাতীয় সংসদ বা নির্বাহী বিভাগের অধীনে থাকবে না এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ সব বিচারক স্বাধীনভাবে কাজ করবেন।

নয়. জুডিশিয়ারির (নিম্ন আদালত) বার্ষিক বাজেট প্রণয়নের ওপর নির্বাহী বিভাগের কোনো হাত থাকবে না। এই বাজেট সুপ্রিম কোর্ট প্রণয়ন ও বরাদ্দ করবে।

দশ. জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা প্রশাসনিক আদালতের আওতাভুক্ত থাকবেন।

এগারো. মাসদার হোসেন বনাম রাষ্ট্র মামলার রায় অনুযায়ী, বিচার বিভাগ পৃথককরণের জন্য সংবিধানে কোনো সংশোধন করার প্রয়োজন নেই। তবে পৃথককরণ আরও অর্থবহ করতে যদি সংবিধানের সংশোধনের প্রয়োজন হয়, তবে তা করা যাবে।

বারো. জুডিশিয়াল পে-কমিশন: জুডিশিয়াল পে-কমিশন জুডিশিয়ারির সদস্যদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে যতদিন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ না করবে, ততদিন পর্যন্ত বর্তমান অবকাঠামো অনুযায়ী তার সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

এআইএম/এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর