সোমবার, ১৭ জুন, ২০২৪, ঢাকা

বায়ুদূষণ রোধে কী পদক্ষেপ জানতে চায় হাইকোর্ট

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:০৬ পিএম

শেয়ার করুন:

বায়ুদূষণ রোধে কী পদক্ষেপ জানতে চায় হাইকোর্ট

হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে ঢাকার বায়ু দূষণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে আদালতে একটি লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) এ বিষয়ে শুনানি করে বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মাদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।


বিজ্ঞাপন


আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আপিল বিভাগের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনিই হাইকোর্টের আদেশের বিষয়টি ঢাকা মেইলকে জানিয়েছেন।

আগামী রোববার পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্টদের জানাতে বলেছেন আদালত। এ সময় আদালত বলেছেন, আপনারা কি আমাদের মেরে ফেলবেন নাকি। নির্দেশনা বাস্তবায়নে বারবার আপনাদের ডাকতে হয়। আমরা নিজেরাই লজ্জা পাচ্ছি। পরিবেশ দূষণ রোধে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন তা আগামী ৫ জানুয়ারি রোববার জানান।

আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন চেয়ে আমরা একটি আবেদন করেছিলাম। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত পরিবেশ অধিদফতর, সিটি করপোরেশনসহ সব পক্ষের কাছে জানতে চেয়েছেন। বায়ু দূষণরোধে আপনারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। বারবার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। আপনারা কি আমাদের সবাইকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চান। পরে বায়ু দূষণরোধে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন তা আগামী রোববারের মধ্যে জানাতে নির্দেশ দেন।

এ সময় পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষে আইনজীবী আমাতুল করিম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষে সাঈদ আহমেদ রাজা উপস্থিত ছিলেন।


বিজ্ঞাপন


ঢাকার বায়ু দূষণ রোধে উচ্চ আদালতের যে নয় দফা নির্দেশনা রয়েছে বাস্তবায়নের নির্দেশনা চেয়ে গতকাল হাইকোর্টে আবেদন করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

এই আইনজীবী বলেন, আপনারা জানেন, কয়েক দিন ধরে রিপোর্ট হচ্ছে- বিশ্বের সর্বোচ্চ বায়ু দূষণকারী শহর হচ্ছে ঢাকা। বায়ু দূষণে ঢাকার এই অবস্থান ধারাবাহিক হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এটি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। যেটা দিল্লিতেও করা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের এখানে কারো কোনো খবর নেই। এখন পর্যন্ত ঢাকা শহর বায়ু দূষণে এক নম্বরে আছে, অথচ কেউ কোনো পাত্তা দিচ্ছেন না। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত এ বিষয়ে বলে যাচ্ছেন।

এর আগে বায়ু দূষণরোধে নয় দফা নির্দেশনা দিয়ে ২০২০ সালে রায় দেন উচ্চ আদালত।

নয় দফা নির্দেশনা বলা হয়-

১. ঢাকা শহরের মধ্যে বালি বা মাটি বহনকারী ট্রাকগুলোকে ঢেকে পরিবহণ করতে হবে।

২.যে সব জায়গায় নির্মাণকাজ চলছে সেসব জায়গার কনট্রাকটররা তা ঢেকে রাখবে।

৩. এছাড়া ঢাকার সড়কগুলোতে পানি ছিটানোর যে নির্দেশ ছিল, সে নির্দেশ অনুযায়ী যেসব জায়গায় এখনো পানি ছিটানো হচ্ছে না, সেসব এলাকায় পানি ছিটানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪. সড়কের মেগা প্রজেক্টের নির্মাণ কাজ এবং কার্পেটিং যেসব কাজ চলছে, যেসব কাজ যেন আইন কানুন এবং চুক্তির টার্মস এন্ড কন্ডিশন মেনে করা হয় সেটা নিশ্চিত করার নির্দেশ।

৫. গাড়ির কলো ধোয়া ছাড়ে সেগুলো জব্দ করতে বলা হয়েছে।

৬. সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী রাস্তায় চলাচলকারী গাড়ির ইকোনোমিক লাইফ নির্ধারণ করতে হবে এবং যেসব গাড়ি পুরাতন হয়ে গেছে সেগুলো চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ।

৭. যেসব উটভাটা লাইসেন্সবিহীনভাবে চলছে, সেগুলোর মধ্যে যেগুলো এখনো বন্ধ করা হয়নি, সেগুলো বন্ধ করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ।

৮.পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি ছাড়া টায়ার পোড়ানো এবং ব্যাটারি রিসাইকিলিং বন্ধের নির্দেশ।

৯.মার্কেট এবং দোকানের বর্জ্য প্যাকেট করে রাখতে এবং তা মার্কেট ও দোকান বন্ধের পরে সিটি করপোরেশনকে ওই বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ।

এআইএম/এমআর/জেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর