যুদ্ধাপরাধ: টাঙ্গাইলের দুইজনের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:২৫ পিএম
যুদ্ধাপরাধ: টাঙ্গাইলের দুইজনের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন

স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে টাঙ্গাইলের দুইজনের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

তদন্ত প্রতিবেদনটি শিগগিরই ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বরাবর দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) ধানমন্ডির তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সংস্থাটির প্রধান সমন্বয়ক সানাউল হক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার বেড়াডাকুরী গ্রামের বাসিন্দা রাজাকার কমান্ডার কোহিনুর ওরফে মনিরুজ্জামান কহিনুর ওরফে মনিরুজ্জামান (৭০) এবং একই উপজেলার চাতুটিয়া (গোটাংরা) গ্রামের বাসিন্দা আগমগীর ওরফে শা আ ম আলমগীর তালুকদার (৬৭) বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগে তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।

অভিযোগ তিনটি হলো

প্রথম অভিযোগ, ১৯৭১ সালের ২৮ জুন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মুসলিম উদ্দিন মিয়া ওরফে মুসলিম মাস্টারকে রাজাকার কোহিনুর এবং তার সহযোগী রাজাকারেরা নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ করে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করে লাশ গুম করে।

দ্বিতীয় অভিযোগ, ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট রাজাকার কোহিনুর অন্যান্য রাজাকারসহ পাকিস্তানী আর্মিদের সঙ্গে নিয়ে মুসলিম মাস্টারের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। একইদিন মুসলিম মাস্টারের শ্বশুরবাড়ি গিয়ে তার দুই মেয়েকে আর্মিদের হাতে তুলে দিতে বলে। তাদের না পেয়ে ওই বাড়ি থেকে আবুল মনসুর মোহাম্মদ মাজহারুল হাসান তালুকদার নামে একজনে তুলে নিয়ে যায়। ১১ ডিসেম্বর তাকে কাদেরিয়া বাহিনী ক্যান্টনমেন্ট থেকে উদ্ধার করে।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রাজাকার কোহিনুর ও আলমগীর হানাদার বাহিনীর সহায়তায় শাহীন হাওলাদার, শহীদ দুদু ফকির, শহীদ আমজাত ফকিরদের তাদের বাড়িতেই গুলি করে হত্যা করে এবং মোছা. সমলা বেগমকে উরুতে গুলি করে জখম করে। এরপর তারা বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে যাকে যেখানে পায় গুলি করে। মুক্তিযোদ্ধা মনে করে তারা ৪/৫ নিরস্ত্র লোকে গুলি করে হত্যা করে।

একদিন তারা মাহমুদপুর থেকে পানকাতা গ্রামের উত্তর প্রান্ত পর্যন্ত নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ১৭ নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করে এবং ২৫/৩০টি বাড়ির মালামাল লুট করে অগ্নিসংযোগ করে।

এআইএম/এমআর