কিছু কর্মকর্তা অসাধু পদ্ধতিতে ঋণ দিচ্ছে: হাইকোর্ট

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৫৯ পিএম
কিছু কর্মকর্তা অসাধু পদ্ধতিতে ঋণ দিচ্ছে: হাইকোর্ট

সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণের বিপরীতে চেক ডিজঅনার মামলা না করার রায়ে আদালত বলেছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কিছু অসাধু কর্মকর্তা খেয়াল খুশি মতো অসাধু পদ্ধতিতে ঋণ দিচ্ছে।

এ সংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তি করে গত ২৩ নভেম্বর বিচারপতি আশরাফুল কামালের একক বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) রায়ের কপি থেকে এমন তথ্য জানা গেছে। ‘কোনো ব্যাংক চেক ডিজঅনার মামলা করতে পারবে না’ এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

১৩ পৃষ্ঠার রায়ে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়া হলে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঋণ মঞ্জুরের চিঠি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

আদালত বলেছেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্ত পরিচালক এবং এর কর্মকর্তারা তাদের খেয়ালখুশি মতো অসাধু এবং অনিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ঋণ প্রদান করছে। উক্ত মন্দঋণের আদায়কারীর ভূমিকায় বিচার বিভাগকে ব্যবহার করছে।

আদালত আরও বলেন, ব্যাংকের টাকা যেহেতু জনগণের টাকা, সেহেতু জনগণের টাকা কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হচ্ছে, তা জানার অধিকার তাদের আছে।

রায়ে বলা হয়েছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রতিটি ঋণের বিপরীতে ইন্সুরেন্স বাধ্যতামূলক করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অবিলম্বে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা জারি করবে।

গত ২৩ নভেম্বর সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণের বিপরীতে চেক ডিজঅনার মামলা না করার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে বলা হয়েছে, ঋণের বিপরীতে চেক ডিজঅনারের মামলা করতে পারবে না ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। একইসঙ্গে আপিলকারীর আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। ঋণ হিসেবে নেওয়া মোট টাকার ৫০ ভাগ আগামী দশ দিনের মধ্যে ফেরত দিতে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্রতিটি ঋণের বিপরীতে ইনস্যুরেন্স করতে আইন প্রণয়নে জাতীয় সংসদকে পরামর্শ ও বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের সব আদালতকে ঋণের বিপরীতে চেক ডিজঅনার মামলা আমলে না নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওইদিন আদালতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আব্দুল্লাহ আল বাকী। তাকে সহযোগিতা করেন ওয়াহিদা আফরোজ চৌধুরী, আইনজীবী কায়েদে আজম ইকবাল, অ্যাডভোকেট শাহীনুর রহমান ও অ্যাডভোকেট আছাদুজ্জামান। 

আদালত থেকে বেরিয়ে আইনজীবী আব্দুল্লা আল বাকী বলেছিলেন, এই রায়ের ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণের বিপরীতে চেক ডিজঅনারের মামলা করতে পারবে না। তবে অর্থঋণ আদালতে এ-সংক্রান্ত মামলা করতে পারবেন।

মোহাম্মদ আলী ২০১১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রাক ব্যাংক ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর শাখা থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ নেন। ঋণ পরিশোধ না করায় ২০১৫ সালের ২৭ জুলাই তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলায় তাকে ৬ মাসের সাজা ও ২ লাখ ৯৫ হাজার ৩০৫ টাকা জরিমানা করেন।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে মোহাম্মদ আলী হাইকোর্টে আপিল করেন ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর। শুনানি শেষে আজ আদালত এই রায় ঘোষণা করছেন।

এআইএম/এমআর