অর্থ আত্মসাতের মামলায় আটক হওয়া পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক খবির উদ্দিনের দুই মেয়ে শারমিন আহমেদ ও তানিয়া আহমেদ র্যাবের হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টে এমন তথ্য জানান, দুই বোনের আইনজীবী মো. আবু তালেব।
পরে তিনি আদালত থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের জানান জানান, গতকাল বুধবার (২৪ আগস্ট) ওই পরিবারের ১১ জনের পাসপোর্ট, যাদের পাসপোর্ট নেই তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার শর্তে হাইকোর্ট মুক্তির আদেশ দেন। এরমধ্যে বুধবার শারমিন আহমেদ ও তানিয়া আহমেদ তাদের পাসপোর্ট আদালতে দাখিল করেন। এরপর রাতেই র্যাবের কাছে পরিবারের আরও চারজনের পাসপোর্ট জমা দেওয়া হলে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। এছাড়া তাদের পরিবারের আরও দুজনের জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল করা হয়।
এর আগে গতকাল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ঘটনায় গ্রেফতার পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক খবির উদ্দিনের দুই মেয়ে শারমিন আহমেদ ও তানিয়া আহমেদকে হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়।
বুধবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চে র্যাব তাদেরকে হাজির করে।
এর আগে গতকাল সকালে দেশত্যাগের প্রাক্কালে গ্রেফতার হন পিপলস্ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানির প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎকারী পি কে হালদারের অন্যতম সহযোগী খবির উদ্দিনের দুই কন্যা। তারা গত ২৮ জুলাই দেশে এসেছিলেন এবং বুধবার গোপনে কানাডা পালাচ্ছিলেন। প্রায় দেড় যুগ ধরে কানাডায় অবস্থান করা শারমিন ৩১ কোটি এবং তানিয়া ৩৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তারা তাদের বাবা, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালক খবির উদ্দিনের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ করেন।
বুধবার (২৪ আগস্ট) তাদের গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য জানায় র্যাব।
র্যাব জানায়, দেশের আর্থিক খাতে আলোচিত নাম প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদার। তিনি দেশের আর্থিক খাতের শীর্ষ খেলাপিদের মধ্যে অন্যতম একজন। গত ১৪ মে কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে তাকে পাশের দেশের গোয়েন্দা বাহিনী গ্রেফতার করে। ১৯৯৭ সালের ২৪ নভেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিপলস্ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিকে অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে নানা অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির কারণে ২০১৯ সালে পিপলস্ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানির সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসময় আদালত পি কে হালদারসহ প্রতিষ্ঠানটির বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করেন।
জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ছয় হাজার ব্যক্তি/শ্রেণির আমানতকারী রয়েছে এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীর প্রায় এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা আটকা পড়েছে। এই টাকার পুরোটাই পিপলস্ ঋণ হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা রয়েছে। এই অর্থের একটি বড় অংশ প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকরা বিভিন্ন নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছে।
পিপলস্ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক খবির উদ্দিন পি কে হালদারের অন্যতম সহযোগী। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময় নিজে প্রায় ২০০ কোটি টাকা পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের নামে বেনামে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেন। পরে ২০১০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এই পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
চলতি বছরের ৭ মার্চ প্রতিষ্ঠানটির ঋণখেলাপিদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। পরে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় গত ১৯ এপ্রিল আদালত তাদের গ্রেফতার করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেন। র্যাব জানতে পারে যে, এই প্রতিষ্ঠানের দুজন ঋণখেলাপি বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে খবির উদ্দিনের দুই মেয়েকে গ্রেফতার করা হয়।
এআইএম/জেবি




