করোনা পরীক্ষায় জালিয়াতি

স্বাস্থ্যের আজাদ-সাহেদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২২, ০৫:৪৬ পিএম
স্বাস্থ্যের আজাদ-সাহেদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকার পরও করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ ও চিকিৎসার জন্য চুক্তি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। 

রোববার (১৪ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আসাদ মো. আসিফুজ্জামানের আদালতে সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী দুদকের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী।

অভিযোগপত্রে উল্লেখিত অন্য আসামিরা হলেন- স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসান, উপ-পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. শফিউর রহমান এবং গবেষণা কর্মকর্তা ডা. দিদারুল ইসলাম।

মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকায় আসামি সাহেদকে আজ কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় জামিনে থাকা অপর আসামিরা আদালতে উপস্থিত হন। তাদের উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তবে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন। 

এর আগে গত ৬ জুন মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এদিন আসামিপক্ষ মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে দুদক অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে গত ১২ জুন আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। 

২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী এটি দাখিল করেন।

এরপর গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত অভিযোগপত্র আমলে নেন। এছাড়া মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এ বদলির আদেশ দেন।

২০২০ সালের ২৩ বছরের সেপ্টেম্বর দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী মামলাটি করেন। হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকার পরও করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ ও চিকিৎসার জন্য চুক্তি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এই মামলা করা হয়। সেখানে আবুল কালাম আজাদকে আসামি করা হয়নি। তবে তদন্তে নাম আসায় অভিযোগপত্রে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মামলার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লাইসেন্স নবায়ন না করা রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, সমঝোতা স্মারক চুক্তি সম্পাদন ও সরকারি  প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে ৩ হাজার ৯৩৯ জন কোভিড রোগীর নমুনা বিনামূল্যে পরীক্ষা করার ব‌্যবস্থা করেছেন। ওই হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষার জন‌্য রোগী প্রতি ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখার চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয় ও অন্য কর্মকর্তাদের মাসিক খাবার খরচ হিসেবে ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার চাহিদা তুলে ধরাসহ এর খসড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

টিএ/এমআর