বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে তৃতীয় দফায় আরও তিন দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে বিচারক রিপন হোসেন এ আদেশ দেন। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (নিরস্ত্র) ফিরোজ উদ্দিন দীপকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, এর আগে দুই দফায় মোট সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপ বাসা থেকে ফোন করে তাহসিফকে ডেকে নেন। পরে দীপ, তাহসিফ ও মামলার অন্য আসামি এক তরুণী একটি মোটরসাইকেলের গ্যারেজে যান। এরপর তাঁরা কয়েক দফায় উত্তরার বিভিন্ন স্থানে খাবার খান। একপর্যায়ে স্থানীয় নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গিয়ে বিয়ার পান করেন। পরে ওই তরুণী বাসায় চলে গেলে দীপ ও তাহসিফ রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যান।
সেখানে গিয়ে তাঁরা তুরাগ নদীর পাশের একটি মাঠের দিকে যান। কয়েকজন লোককে দেখে তাঁরা আলাদা হয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন। তবে এরপর কী ঘটেছিল এবং তাহসিফ কীভাবে হত্যার শিকার হন, সে বিষয়ে দীপের বক্তব্যে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি তদন্ত কর্মকর্তার।
আবেদনে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় দীপ বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন এবং অনেক বিষয়ে নীরব থেকেছেন। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ ও কললিস্টের তথ্যের সঙ্গে তাঁর বক্তব্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। হত্যার কারণ, পরিকল্পনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা এবং হত্যায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধারের বিষয়েও তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
তদন্ত কর্মকর্তা মনে করেন, হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, আর্থিক লেনদেন কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে কোনো পরিকল্পনাকারী বা সহযোগী ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে প্রথম দফায় দীপকে চার দিন এবং দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া হয়। দুই দফায় সাত দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এবার তৃতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলেন আদালত।
এআর




