বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

দুদকের ব্রিফিং নিয়ে আসিফ মাহমুদের রিট, আদেশ ১১ নভেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

শেয়ার করুন:

দুদকের ব্রিফিং নিয়ে আসিফ মাহমুদের রিট, আদেশ ১১ নভেম্বর
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ফাইল ছবি

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতেই ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ দাবি করে প্রেস ব্রিফিং করা এবং তা গণমাধ্যমে প্রচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার করা রিটের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ১১ নভেম্বর আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইউসুফ আলী ও জহিরুল ইসলাম মূসা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহবুবুর রহমান খান।

অনুসন্ধান বা তদন্তাধীন কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমে মানহানিকর প্রেস ব্রিফিং করা থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে গত সেপ্টেম্বরে রিটটি করেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি অবকাশকালীন বেঞ্চ রিট আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছিলেন। আদালতের অবকাশ শেষে নতুন করে শুনানির জন্য আবেদনটি বর্তমান বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর করা রিটে দুদকের পক্ষ থেকে গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া বক্তব্যকে বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারাধীন কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলা থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনা এবং ইতিমধ্যে প্রচারিত বক্তব্যের বিষয়ে সমগুরুত্ব দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আবেদন করা হয়েছে।

রিটে দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) ও সহকারী পরিচালককে (জনসংযোগ কর্মকর্তা) বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনের বরাত দিয়ে আইনজীবীরা জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়’ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। অথচ দুদক আইন অনুযায়ী, কোনো অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ অনুসন্ধান শেষের ফলাফল হতে পারে। অনুসন্ধান শুরুর আগেই এমন বক্তব্য দেওয়ার আইনি এখতিয়ার দুদকের নেই বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, পরবর্তী সময়ে দুদকের সচিব সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ (মুখ ফসকে বলা) হিসেবে উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সাংবাদিকদের কাছে এটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে স্বীকার করলেও গণমাধ্যমে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।

এরপর আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও তা আমলে না নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের পক্ষ থেকে আরেকটি প্রেস ব্রিফিং করা হয়। সেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, ওয়াসা, এলজিইডির টেন্ডার এবং বিদেশে অর্থপাচারসহ বিভিন্ন নতুন অভিযোগ আনা হয় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে এবং ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালাতেই এ ধরনের ব্রিফিং করা হয়েছে। এটি সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকার এবং দুদকের ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১’-এর পরিপন্থী বলেও রিটে দাবি করা হয়েছে।

আরএনবি/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর