পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং পদ্মা সেতুসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া।
গত ২৬ অক্টোবর পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষার নির্দেশনা চেয়ে মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থার (মওসুস) পক্ষে জনস্বার্থে এই রিট করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান গোলাম রহমান ভূঁইয়া।
রিট আবেদনে বলা হয়, পদ্মা নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলার কারণে নদীর প্রাকৃতিক গঠন ও স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে নদীতীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে নদীভাঙন বাড়ছে এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে। একইসঙ্গে পদ্মা সেতু ও এর সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবেদনে আইন লঙ্ঘন করে বালু উত্তোলনের ঘটনা তদন্ত, দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সক্রিয় পদক্ষেপ ও নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিতের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
আইনজীবী গোলাম রহমান ভূঁইয়া বলেন, “পদ্মা নদী দেশের অর্থনীতি, কৃষি ও মৎস্যসম্পদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে নদীতীরবর্তী মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন ও কঠোর তদারকি জরুরি। নদী রক্ষা ও পরিবেশগত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার্থেই আদালত এই রুল জারি করেছেন।”
আরএনবি/এমআর




