মামলার আরজি প্রস্তুতের সময় আইনজীবীর করা ভুলের খেসারত মক্কেলকে দিতে হবে না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, আইনজীবীর পেশাগত কোনো ভুল বা ত্রুটির কারণে বিচারপ্রার্থী মক্কেলকে ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা ভোগান্তির শিকার হতে দেওয়া যায় না।
জমির মালিকানা-সংক্রান্ত একটি আপিল মঞ্জুর করে অধস্তন আদালতের খারিজাদেশ বাতিল এবং মামলাটি পুনর্বিচারের নির্দেশ দিয়ে এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদীর হাইকোর্ট বেঞ্চ।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে আট পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়। রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান।
আদালতে আপিলকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ নাজমুল হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বিলকিস নাসিমা রহমান, মো. আবদুস সালাম ও মোহাম্মদ নাজমুল হোসেন সিদ্দিক।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা
রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, মামলার আরজি প্রস্তুতের সময় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ভুল করেছিলেন। এতে বাদীর কোনো দায় বা ভূমিকা ছিল না। সুতরাং আইনজীবীর করা ভুলের কারণে বাদীকে ভোগান্তির শিকার হতে দেওয়া উচিত নয়।
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে উভয় পক্ষকে নিজ নিজ আরজি সংশোধন এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ দিয়ে মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য বিচারিক আদালতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
একই সঙ্গে ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতকে আদেশের অনুলিপি পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলাটির বিচারকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ৬৭ দশমিক ৪০ শতাংশ বিরোধপূর্ণ জমির স্বত্ব ঘোষণার জন্য ঢাকার মোহাম্মদ আসিফ নামের এক ব্যক্তি আদালতে মামলা করেন। সিএস রেকর্ড অনুযায়ী, জমির পূর্বতন মালিকদের কাছ থেকে হস্তান্তরের ধারাবাহিকতায় ১৯৮৯ সালে নিবন্ধিত কবলা দলিলের মাধ্যমে সালাহউদ্দিন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমিটি কেনেন আসিফ। সেখানে কারখানা স্থাপন করে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন।
তবে সিটি সার্ভে খতিয়ান নম্বর-১-এ জমিটি বিবাদীদের নামে ভুলভাবে রেকর্ডভুক্ত হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় তহশিলদার বাদীর কাছ থেকে খাজনা নেওয়া বন্ধ করে দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সিটি সার্ভের খতিয়ানের ভুল ও অবৈধ রেকর্ড সংশোধনের দাবি জানিয়ে ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা করেন মোহাম্মদ আসিফ। কিন্তু বাদীর আইনজীবী আরজিতে আরএস খতিয়ান ও সিটি সার্ভের ভুল রেকর্ডের বিষয়টি যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন।
আইনজীবীর এই ত্রুটির কারণে বাদীর বক্তব্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত না হওয়ায় ২০১৭ সালের ১৫ জুন মামলাটি খারিজ করে দেন নিম্ন আদালত।
নিম্ন আদালতের ওই রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে হাইকোর্টে ফার্স্ট আপিল করেন মোহাম্মদ আসিফ। সেই আপিলের শুনানি শেষে অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রি বাতিল করে মামলাটি পুনর্বিচারের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
আরএনবি/এআর




