বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

পাতারটেকে ৭ হত্যা: অসুস্থ শহীদুল হক, পেছাল অভিযোগ গঠনের শুনানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

শেয়ার করুন:

পাতারটেকে ৭ হত্যা: অসুস্থ শহীদুল হক, পেছাল অভিযোগ গঠনের শুনানি

গাজীপুরের পাতারটেকে কথিত ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে সাতজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ১৭ নভেম্বর নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। 

মামলার অন্যতম আসামি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক অসুস্থ থাকায় তার আইনজীবীর সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই দিন ধার্য করেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১০ জন আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে শহীদুল হক ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।

বুধবার আদালতে শহীদুল হকের পক্ষে সময়ের আবেদন করেন আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ। তিনি জানান, মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাবেক আইজিপি ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পারেননি। তাই সময়ের আবেদন করা হলে আদালত শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও পলাতক আসামিরা হলেন- তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক এসবি প্রধান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের তৎকালীন প্রধান মনিরুল ইসলাম, বগুড়ার তৎকালীন পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, গাজীপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার ও ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, বগুড়ার তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল এবং সিটিটিসির তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার (সোয়াট টিম লিডার) এস এম জাহাঙ্গীর হাছান।

প্রসিকিউশন জানায়, গত ২ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশনের শুনানি শেষ হয়। এরপর আসামিপক্ষের শুনানির কথা ছিল। তবে এর মধ্যেই মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২–এ স্থানান্তর করা হয়।

অভিযোগে যা বলা হয়েছে

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের নোয়াগাঁও পাতারটেক এলাকায় সোলায়মান সরকারের বাড়িতে সাতজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের তুলে নিয়ে প্রথমে বগুড়ায় পুলিশের একটি গোপন বন্দিশালায় রাখা হয়েছিল। পরে সিটিটিসির নেতৃত্বে সোয়াট সদস্যরা পাতারটেকে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে ওই সাতজনকে হত্যা করে, যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন শরতের তুফান’।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, হত্যার পর নিহতদের মরদেহ নিতে এলে স্বজনদের বিরুদ্ধেও তদন্তের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ভয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিতে আসেননি। নিহত সাতজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। বাকি তিনজন হলেন- মো. ইবরাহীম, ফরিদুল ইসলাম আকাশ ও সাইফুর রহমান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ট্রাইব্যুনালে এ ঘটনায় অভিযোগ দাখিল করেন নিহত ইবরাহীমের বাবা। পরবর্তীতে চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি ১০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন, যার প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

আরএনবি/এসআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর